kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

পরিকল্পিত পদক্ষেপে সচল চট্টগ্রাম বন্দর

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিকল্পিত পদক্ষেপে সচল চট্টগ্রাম বন্দর

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা, বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ এবং রপ্তানি পণ্য বন্দরে পৌঁছে জাহাজীকরণ পুরোদমে স্বাভাবিক রয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে প্রথম দফায় অলিখিত লকডাউন এবং গত ১৪ এপ্রিল থেকে কড়া লকডাউন শুরুর পরও বন্দর পরিচালন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব এখনো পড়েনি। বন্দর সচল থাকায় বন্দর ব্যবহারকারী বিশেষ করে রপ্তানিকারকরা খুবই খুশি।

অথচ এক বছর আগে ২০২০ সালের লকডাউনে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি সচল থাকলেও ব্যবহারকারী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা না থাকায় বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। পণ্য ডেলিভারি না নেওয়ায় বন্দরের ভেতর কনটেইনার জট সামাল দিতে এক পর্যায়ে জাহাজ ভিড়ানো পর্যন্ত সীমিত করা হয়েছিল। অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল তখনকার পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। তবে এবার বন্দর ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ব্যতিক্রম। লকডাউন, রমজান এবং বাজেটের বিষয় মাথায় রেখে আগেভাগেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ; এতে এবার কঠোর লকডাউনে সুফল মিলতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলছেন, ‘রমজানের চাপ সামাল দিতে আমরা আগেভাগেই পণ্য সরবরাহ নিতে নির্দেশনা দিয়েছিলাম; এতে বেশ সুফল মিলেছে। বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারভর্তি পণ্য বন্দর থেকে দ্রুত ছাড় নিতে আমরা কঠোর ছিলাম। ফলে সেখানেও সুফল মিলেছে। গত বছর এই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার নিয়েও আমরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘গত বছরের লকডাউন অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তাতেও সাড়া মিলেছে। ফলে দেখবেন লকডাউন শুরুর প্রথম দিন ১৪ এপ্রিল নববর্ষের সরকারি ছুটি থাকার পরও তিন হাজার ১২২ একক কনটেইনার ছাড় হয়েছে। যে কদিন লকডাউন থাকবে সেই সময়ে আমরা দিনে তিন হাজার একক ডেলিভারি করতে পারলেই সন্তুষ্ট।’

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর সচল থাকা মানে দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি সচল থাকা। বন্দর সচল থাকার পেছনে প্রথম যে পদক্ষেপের সুফল মিলেছে সেটি হচ্ছে, রপ্তানিমুখী শিল-কারখানা সচল রাখা। এর ফলে পণ্য জাহাজ থেকে নামার পর বন্দরে আটকে থাকার সুযোগ ছিল না; আর কারখানার উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নবনির্বাচিত সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউনে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সরকারকে বোঝাতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরকার আমাদের যুক্তি বুঝে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে কারখানা সচল রেখেছে। এর ফলে লকডাউনে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট নেই, কনটেইনারজটও নেই; এই বন্দর ব্যবস্থাপনায় আমরা খুব খুশি।’



সাতদিনের সেরা