kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা যাচ্ছে পঞ্চগড়ের আলু

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কা যাচ্ছে পঞ্চগড়ের আলু

রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা পঞ্চগড়ের আলু। ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড়ে উৎপাদিত দুই জাতের আলু এবার রপ্তানি হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কায়। এখন পর্যন্ত ৯৮ মেট্রিক টন গ্রানুলা ও ডায়মন্ড আলু রপ্তানি হয়েছে উত্তরের এই জেলা থেকে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে বিদেশে যাচ্ছে আলু। এতে বাজারদরের চেয়ে ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। ৫০০ মেট্রিক টন আলু পঞ্চগড় থেকে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এ পর্যন্ত ৯৮ মেট্রিক টন রপ্তানি হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় থেকে ১৪ মেট্রিক টন আলু পাঠানো হয় রপ্তানির জন্য। তবে আগামী বছর রপ্তানির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

বিএডিসির পঞ্চগড় অফিস জানায়, পঞ্চগড় থেকে গত ৩০ মার্চ আলু রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করে বিএডিসি। দেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কেএস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মাসাওয়া অ্যাগ্রো লিমিটেড, অ্যাগ্রোটেক বিডি, বরুন অ্যাগ্রো লিমিটেড আলু রপ্তানির কাজ করছে। সাড়ে আট কেজির প্রতি প্যাকেট আলু পঞ্চগড় থেকে কনটেইনারে করে প্রথমে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। পরে তা কার্গো জাহাজে করে পৌঁছানো হচ্ছে মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কায়। ৯০ থেকে ২০০ গ্রাম ওজনের বড় আলুগুলোই কেবল রপ্তানির জন্য বাছাই করা হয়। প্রতি কেজি ডায়মন্ড আলু ১৪ টাকা ২০ পয়সা এবং গ্রানুলা ১৩ টাকা ২০ পয়সা দরে চাষিদের কাছ থেকে কিনে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এতে বাজারে আলুর দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে চাষিরাও লাভের মুখ দেখছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, গ্রানুলা, টিপিএসসহ ২০টির বেশি জাতের আলুর চাষাবাদ হয়েছে। এবার মোট আলু উৎপাদিত হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন।

আলু চাষি আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমাদের উৎপাদিত আলু দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে যাচ্ছে এটা আমাদের জন্য গর্বের। বিদেশে আলু যাওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। না হলে দাম আরো কমে যেত। তবে দামটা আরেকটু বেশি হলে আমাদের জন্য উপকার হতো। আলু চাষে চাষিরা আরো আগ্রহী হতেন।’

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার আলু চাষি বায়েজীদ বোস্তামী বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ২৩ একর জমিতে ডায়মন্ডসহ কয়েকটি জাতের আলুর চাষ করেছি। রপ্তানির জন্য আমার উৎপাদিত আলুর মধ্যে তিন মেট্রিক টন আলু দিয়েছি। বাকি আলু বিএডিসি ভিত্তিবীজ, মানঘোষিত বীজ হিসেবে কিনে নেবে। অবশিষ্ট কিছু আলু সংরক্ষণ করব। তারপর যা থাকবে বাজারে বিক্রি করে দেব।’

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বরুন অ্যাগ্রো লিমিটেডের মান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের আলুর বাজার রয়েছে। বর্তমানে আমরা মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় রপ্তানি করছি। কেবল ভালো মানের বড় আকারের আলু রপ্তানিযোগ্য।’

পঞ্চগড় জেলা বিএডিসির উপপরিচালক (টিসি) আব্দুল হাই সজিব বলেন, ‘দেশে আলুর চাহিদা ৬৫ থেকে ৭০ লাখ মেট্রিক টন। এবার এক কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি উৎপাদন হয়েছে।



সাতদিনের সেরা