kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

বৈশাখী আয়োজন বন্ধ ফুল ব্যবসা মাটি

সজীব আহমেদ   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৈশাখী আয়োজন বন্ধ ফুল ব্যবসা মাটি

উৎসব, অনুষ্ঠান মানেই ফুলের প্রয়োজন। সারা বছরে কয়েকটি অনুষ্ঠান ঘিরেই চাষিরা ফুল বিক্রি করে থাকেন। পহেলা বৈশাখ, ফুলের বড় বাজার। করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার লকডাউনে পড়ে গত বছর বৈশাখে ফুল ব্যবসা মাটি হয়েছিল চাষি ও ব্যবসায়ীদের। বছর ঘুরে মন্দা কাটিয়ে এবারের পহেলা বৈশাখ ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। আবার যখন পহেলা বৈশাখ দরজায়, তখন দেশজুড়ে মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ। আবারও লকডাউন। সারা দেশের বৈশাখ ঘিরে সব ধরনের উৎসব আয়োজন বন্ধ থাকবে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে গেছেন দেশের ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির তথ্য মতে, সারা দেশে ফুল বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ২০ হাজার কৃষক। ফুলের বাজার দেড় হাজার কোটি টাকার। ফুল উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও খুচরা ফুল ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে প্রায় অর্ধকোটি মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে, তারা প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির। এ অবস্থায় তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাই এই সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি মো. আব্দুর রহিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বছরে আমাদের ফুলের বাজার দেড় হাজার কোটি টাকার। পহেলা বৈশাখসহ সারা বছরে তিন থেকে চারটি বড় অনুষ্ঠান ঘিরেই চাষিরা ফুল বিক্রি করে থাকেন। করোনার কারণে গত বছর সব ধরনের অনুষ্ঠান, উৎসব আয়োজন বন্ধ থাকায় ফুল ব্যবসাও বন্ধ ছিল। তবে দুই থেকে তিন মাস ধরে ফুল ব্যবসা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছিল। তাই চাষি ও ব্যবসায়ীরা এই বৈশাখ ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এবারের বৈশাখ ঘিরেও ফুল ব্যবসা মাটি হয়ে গেছে।’

বিভিন্ন ফুল চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাষিদের আশা ছিল এবার পহেলা বৈশাখে ব্যাপক হারে ফুল বিক্রি হবে। এ জন্য খাজনা নিয়ে চাষিরা চাষ করেছিলেন গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, চেরিসহ নানা জাতের ফুল। দিন-রাত পরিশ্রম ও পরিচর্যা করে ফোটানো হয় ফুল। কিন্তু বিধিবাম! ফুল ফোটা শুরু হলেও করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গতবারের মতো এবারও পহেলা বৈশাখ উদযাপন বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। অনুষ্ঠান উদযাপন বন্ধ থাকায় চাষিদের ফুল বিক্রিও বন্ধ। এই লোকসান কাটিয়ে ওঠা হয়তো বা কোনোমতেই সম্ভব না এই ফুল চাষিদের।

সাভার নামাবাজার এলাকার ফুল চাষি আফসার উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফুল ব্যবসা এক বছর ধরেই ধ্বংস। মাঝে কিছু সময়ের জন্য চালু হলেও এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। ক্ষতির মুখে পড়ে বর্তমানে সাভারের ৮০ শতাংশ ফুল চাষি ফুল চাষ করা বাদ দিয়েছেন। পহেলা বৈশাখ নিয়ে খুব আশায় ছিলাম। সেটাও বাতিল। দাঁড়ানোর কোনো উপায় পাচ্ছি না আমরা ফুল চাষিরা।’

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে দিশাহারা দেশের সবচেয়ে বেশি ফুল উৎপাদন এলাকা যশোরের ফুল চাষিরা। এ অঞ্চলের চাষিরা জানান, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয় এখানে উৎপাদিত ফুল। তবে করোনার কারণে গতবারের মতো এবারও পহেলা বৈশাখের আয়োজন বন্ধ। নেই কোনো বেচাকেনা। সে কারণে ক্ষেতের ফুল ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। অনেকে ফুল কাটলেও বিক্রি করতে না পেরে গরু-ছাগল দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে।

রাজধানীর শাহবাগের ফুল ব্যবসায়ী ও অনন্যা পুষ্প বিতানের মালিক মো. লোকমান হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার ফুল বিক্রি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গিয়েছিল। এখন করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউন দিয়েছে সরকার। তাই সব অনুষ্ঠান বন্ধ। সঙ্গে ফুল ব্যবসাও বন্ধ। প্রতিটি ফুলের দোকানে চার-পাঁচজন করে ফুলের কারিগর রয়েছেন। দোকান বন্ধ থাকলেও তাঁদের বেতন দিতে হচ্ছে। কৃষক থেকে শুরু করে এই সেক্টরের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, সবাই আবার ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবেন।



সাতদিনের সেরা