kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

বড় সাইবার হামলার আশঙ্কা

অচল হয়ে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থব্যবস্থার একাংশ

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অচল হয়ে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থব্যবস্থার একাংশ

২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের চেয়েও বড় মাপের একটি সাইবার হামলার আশঙ্কায় বেশি উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোমে পাওয়েল। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ২০০৮ সালের মতো আরেকটি অর্থনৈতিক সংকট বিশ্বজুড়ে হবে এমন আশঙ্কা কম, অথচ বড় ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকি অনেক বেশি।’ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

জেরোমে পাওয়েল বলেন, ‘বিশ্ব বদলে যাচ্ছে, প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঝুঁকির ধরনও বদলে যাচ্ছে। আমি বলতে পারি, আমাদের চোখে এ সময়ে আমরা যে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখতে পাচ্ছি তা হচ্ছে সাইবার ঝুঁকি। অনেক দেশের সরকার ও বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও একই উদ্বেগের বিষয় শেয়ার করেছে। যেসব সংস্থা সাইবার হামলা রোধে বেশি বিনিয়োগ করেছে তারাও বিষয়টি শেয়ার করেছে।’

পাওয়েল জোর দিয়ে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভ বেশ কিছু ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্যপট বিবেচনা করছে। যেমন : পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের হামলা। যেখানে পেমেন্ট ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, কোনো কাজ করবে না। কিংবা এটি পুরোপুরি সম্পন্ন করা যাবে না। অথবা বড় ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেমেন্ট ট্র্যাকের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।’

তিনি বলেন, ‘ফেড এমনটিও ভাবছে যে বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থার একটি বড় অংশও অচল হয়ে পড়তে পারে। আমরা অনেক বেশি সময়, শক্তি এবং অর্থ এখন এসব হামলা ঠেকানোর জন্য ব্যয় করছি।’ তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিনই বড় বড় সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা হচ্ছে।

গত মাসে চীন বিশ্বের প্রথম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি উন্মুক্ত করেছে। পাওয়েলকে ডিজিটাল ডলার তৈরির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টির সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করছে ফেড। আমরা মনে করি বিষয়টি আগে বোঝা আমাদের দায়িত্ব। এটি কিভাবে কাজ করবে এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলো কেমন হবে ইত্যাদি।’

তিনি বলেন, ‘ফেড একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করছে এমনকি ডিজিটাল ডলার কেমন হবে তার ডিজাইনও তৈরি করছে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা জনসমক্ষে প্রকাশ করার বিষয়টি তখনই হবে যখন এর প্রভাব পুরোপুরি বোঝা যাবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ডলার হচ্ছে বিশ্বের রিজার্ভ মুদ্রা, ডলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল মুদ্রা তৈরির ক্ষেত্র আমরা প্রথম হতে চাই না। আমাদের ভেবেচিন্তেই এগোতে হবে।’

গত অক্টোবরে পাওয়েল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব ক্রিপ্টোকারেন্সি অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তা করছে। তবে সতর্ক করে বলেছিলেন, একটি ডিজিটাল মুদ্রার সুবিধা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট সময় লাগবে। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বলেছেন, একটি ডিজিটাল মুদ্রা তৈরি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য লাভজনক হবে। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা