kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করে বলা হয়, রপ্তানি সাফল্য,  জোরালো রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং চলমান টিকা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট-মোভিং ফরওয়ার্ড : কানেক্টিভিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস টু স্ট্রেংদেন কম্পিটিটিভনেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল সোমবার প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়ে। এমনকি দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দারিদ্র্য হ্রাসের ধারা উল্টে যায়। অর্থাৎ দারিদ্র্য না কমে বেড়েছে। তবে আশার বিষয় অর্থনীতিতে ক্রমেই পুনরুদ্ধার ঘটছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথমভাগে শিল্প-কারখানাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং রপ্তানিও ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু করোনা মহামারি বিস্তৃত হতে শুরু করায় বর্তমানে অর্থনীতি আরো বড় ঝুঁকি মোকাবেলা করছে। দেশের সবচেয়ে বড় দুই শহর ঢাকা ও চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক জরিপ করে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথমভাগে শ্রমবাজারে পুনরুদ্ধার ঘটেছে, উপার্জনে ফিরেছে মানুষ এবং দরিদ্র ও বস্তি এলাকাগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতিও হয়েছে। চট্টগ্রামে গত ফেব্রুয়ারিতেই বয়স্ক কর্মজীবীর হার করোনা-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরেছে। বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি পরিচালক মারচি মিয়াংগ টেম্বন বলেন, ‘কভিড-১৯ যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে তার মধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ইতিবাচক। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কতটা গতিশীল হবে, তা নির্ভর করছে গণটিকাদান কর্মসূচি কত দ্রুত সফল হয় তার ওপর।’ তিনি বলেন, ‘একটি স্থিতিশীল পুনরুদ্ধারে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করে যাবে, বাংলাদেশ যাতে সবুজ, স্মার্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে ম্যানুফ্যাকচারিং ও রপ্তানি চাহিদা। সরকারি বিনিয়োগে ঘুরে দাঁড়িয়েছে নির্মাণ খাতও। টিকাদান কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ায় সেবা খাত প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে। আশা করা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ৫.৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে। এর পাশাপাশি রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশ থাকবে। তবে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভঙ্গুর হওয়ায় ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। কারণ এতে পোশাক পণ্যের চাহিদা কমতে পারে এবং প্রবাসীদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ এবং প্রতিবেদনের সহকারী রচয়িতা বার্নার্ড হ্যাভেন বলেন, ‘করোনা মহামারি বিশ্বকে অপ্রত্যাশিত মন্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তবে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার গতি পাবে।’