kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ৯৭৫ টাকা

সরকারি এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৯১ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ৯৭৫ টাকা

ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৯৭৫ টাকা এবং সরকারি এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৯১ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। অটোগ্যাসের লিটারপ্রতি ৪৭.৯২ টাকা দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এই দর গতকাল সোমবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। এলপিজি আমদানিকারকরা বলছে, এলপিজি খাতে ৩২ হাজার কোটি টাকার যে বিনিয়োগ রয়েছে সে বিষয়টি পুরাপুরি দেখা হয়নি। গতকাল ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দাম নির্ধারণের এই ঘোষণা দেন বিইআরসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল। এ সময় কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবু ফারুক, মকবুল ই ইলাহী, বজলুর রহমান, কামরুজ্জামান, সচিব রুবিনা ফেরদৌসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

সাধারণত সৌদি সিপি (কনট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী দেশে এলপিজির দাম নির্ধারিত হয়। প্রতি মাসের শুরুতে যখন সৌদি সিপির দাম পরিবর্তন হবে, তখন কমিশন এলপিজির দাম পরিবর্তনের বিষয়ে নতুন করে আদেশ দেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল।

বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি কম্পানি সৌদি আরামকোর প্রোপেনের মূল্য প্রতি টন ৬২৫ ডলার, বিউটেনের মূল্য প্রতি টন ৫৯৫ ডলার বিবেচনায় নিয়ে এবং এলপিজিতে ৩৫ অনুপাত ৬৫ হারে প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ বিবেচনায় নিয়ে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি মাসে সৌদি আরামকো তাদের মূল্য সংশোধন করে। আরামকোর সঙ্গে মিল রেখে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশেও মাসে মাসে এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারিত হবে। মাসের নির্ধারিত সময়ে বিইআরসি তা জানিয়ে দেবে।’

মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘বেসরকারি এলপিজি মজুদ ও বোতলজাতকরণ কম্পানিগুলো ভোক্তা পর্যায়ে মূসক ছাড়া প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ১২ পয়সা, মূসকসহ ৮১ টাকা ৩০ পয়সা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজির বোতলের মূল্য হবে মূসকসহ ৯৭৫ টাকা।’

অটোগ্যাসের আদেশে বলা হয়েছে, মার্চের সৌদি সিপি অনুযায়ী যথাক্রমে প্রোপেন ও বিউটেনের দর ৬২৫ ও ৫৯৫ ডলার। ৮৪.৮০ ডলার মূল্য বিবেচনায় অটোগ্যাসের ভিত্তি মূল্য (লিটার) ২৮.৫২ টাকা, এর সঙ্গে জাহাজ ভাড়া ৪.৪৮ টাকা, অন্যান্য চার্জ ০.৩০ টাকা, মজুদকরণ চার্জ ২.৬৩ টাকা, মূসক ২.৭৪ টাকা, পরিবহন চার্জ ১.২৫ টাকা এবং স্টেশন চার্জ আট টাকা বিবেচনায় ৪৭.৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এলপিজির নতুন এই মূল্যহার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে বিইআরসি।

এলপিজির দাম নির্ধারণের বিষয়টি এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে দেখছেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস কম্পানির হেড অব ডিভিশন (সেলস) প্রকৌশলী জাকারিয়া জালাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটি যেহেতু সরকারি সিদ্ধান্ত তাই এ সিদ্ধান্তের বাহিরে আমাদের যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাই এই সিদ্ধান্ত আমাদের মানতে হবে। কিন্তু এলপিজি খাতে ৩২ হাজার কোটি টাকার যে বিনিয়োগ রয়েছে এ বিষয়টি পুরাপুরি দেখা হয়নি। এ বিষয়টির জন্য আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা কমিশনকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানাবো। পরে এলপিজির দাম নির্ধারণের সঙ্গে আমাদের যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো যেন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়।’