kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

রমজানে ব্যবসায় সীমিত মুনাফা করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রমজানে ব্যবসায় সীমিত মুনাফা করার আহ্বান

সারা বিশ্বে যখন ঈদ, রোজা, পূজা বা ক্রিসমাস ডেতে সব ধরনের পণ্যের দাম কমায়, বাংলাদেশে তখন দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নৈতিক ব্যবসা করা প্রয়োজন। তাই আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রেখে ব্যবসায় সীমিত পর্যায়ে মুনাফা করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

‘পবিত্র রমজান মাসে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তাঁরা এসব কথা বলেন। গতকাল রবিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, রমজানে ভোগ্য পণ্যের বাজার অসহনীয় হয়ে পড়ে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে বাজার তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজন এবং ব্যবসায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোজা এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয় এবং অনেক সময় পণ্যের সাপ্লাই ও চাহিদার সমন্বয় থাকে না।’ তিনি বলেন, ‘পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট সচেতনভাবে কাজ করছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন সুযোগ নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিএসটিআইসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবসায়ী সমাজকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে দেশবাসীকে বাঁচাতে সরকার আগামী এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং সবাইকে তা মানতে হবে।’

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। এ ছাড়া শিগগিরই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ সদস্যের ‘বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি কাজ শুরু করবে। এর ফলে বাজার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।

ওয়েবিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের পাশাপাশি অতিরিক্ত মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় প্রভৃতি কারণে প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসের আগে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। মুক্ত আলোচনায় ডিএনসিসি কাঁচা ও সুপারমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দীন মোহাম্মদ, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজির হোসেন, বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক রাকিবুল হাসান, বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রশা.) তাহের জামিল এবং ডিএমপির এডিসি মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মওলা, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েতুল্লাহ অংশ নেন।