kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

রোজায় ভোজ্য তেলের দাম সহনীয় রাখতে কর ছাড়

আমদানীকৃত অপরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পাম তেলের ওপর ৪% অগ্রিম কর প্রত্যাহার করে নিয়েছে এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোজায় ভোজ্য তেলের দাম সহনীয় রাখতে কর ছাড়

রোজায় ভোজ্য তেলের দাম সহনীয় রাখতে আমদানীকৃত অপরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পাম তেলের ওপর ৪ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল রবিবার এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি জানানো হয়।

এ বিষয়ে এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোজায় সাধারণ ক্রেতাদের সহনীয় দামে ভোজ্য তেল কেনার সুযোগ দিতেই এনবিআর অগ্রিম কর প্রত্যাহার করেছে। এতে ক্রেতারা ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবেন।’ তিনি বলেন, ‘রোজায় ভোজ্য তেলের চাহিদা কয়েক গুণ বাড়ে। এ সময়ে অগ্রিম করের অজুহাতে যেন কোনো অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে না পারে এ জন্য এনবিআর রোজা শুরুর আগেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা করি বাজারে এর সুফল পড়বে।’

এনবিআর থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ১২৬ উপ-ধারা (১) এর ক্ষমতাবলে সরকার ৩০ জুন, ২০১৯ সালে জারিকৃত এসআরও সংশোধন করেছে। আমদানীকৃত অপরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পাম অয়েলের ওপর ৪ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করেছে।’

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা হায়দার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোজার তেল বাজারে চলে গিয়েছে। এখন রোজার দুই-এক দিন আগে অগ্রিম কর প্রত্যাহারে রোজায় তেলের মূল্যের ওপর প্রভাব পড়বে না। তবে ভবিষ্যতে তেলের দামের ওপর প্রভাব পড়বে। ব্যবসায়ীরা অনেক দিন থেকে অগ্রিম কর কমানোর দাবি করে আসছিলেন।’

ব্যবসায়ী এ নেতা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এতে অগ্রিম কর কমানোয় দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে।’

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে তেলের ওপর অগ্রিম কর কমানোর প্রস্তাব নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে আরোপিত কর ও ভ্যাট যৌক্তিক হারে নির্ধারণের জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করা হয়।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি লিটার ভোজ্য তেলের মূল্যের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার সয়াবিন (খোলা) মিল গেটে ১০৭ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১১০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিলগেট মূল্য ১২৩ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১২৭ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১৩৫ টাকা করা হয়। পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিলগেট মূল্য ৫৮৫ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৬০০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ৬২৫ টাকা।