kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

বাজেট সভায় অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও কৃষি খাত গুরুত্ব পাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্য ও কৃষি খাত গুরুত্ব পাবে

আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগামী বাজেটে এসব খাতে বরাদ্দ বাড়বে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘যেসব খাত সরাসরি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত আগামী বাজেটে সেসব খাতের ওপর জোর দেওয়া হবে। যাতে জনগণের হাতে টাকা-পয়সা যেতে পারে। আমরা জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নে চেষ্টা করছি।’ গতকাল রবিবার অর্থমন্ত্রী দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট ভার্চুয়ালি সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

সভায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউট (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার, নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে পরবর্তী বাজেট প্রণয়নে পরামর্শ দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাক-বাজেট আলোচনার অংশ হিসেবে দেশের স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের সব পরামর্শ আমরা রেকর্ড করেছি। এরপর যাঁরা বাজেট প্রণয়ন করছেন তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।’

আগামী বাজেট জনকল্যাণমুখী হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব সময় দেশের সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তাঁর নির্দেশে আমরা জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নে চেষ্টা করছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যেসব খাত সরাসরি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত আগামী বাজেটে সেসব খাতের ওপর জোর দেওয়া হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ নজর থাকবে। যাতে জনগণের হাতে টাকা-পয়সা যেতে পারে। কারণ আমরা একটি ব্যতিক্রম সময়ে বাজেট প্রণয়ন করতে যাচ্ছি। অর্থনীতিবিদরা তাঁদের আলোচনায় এসব বিষয় তুলে ধরেছেন। তাঁরা জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী বাজেটে এসব খাতে বরাদ্দ বাড়বে।’

আগামী বাজেটে ট্যাক্স আদায়ের ওপর জোর দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সভায় আমাদের আয়কর আদায়ের হার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের ট্যাক্স জিডিপি রেশিও অত্যন্ত কম। যেসব পণ্যের ওপর যে হারে ট্যাক্স আদায় হওয়া উচিত আমাদের এখানে সে হারে আদায় হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই ট্যাক্স মওকুফ করা হয়ে থাকে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, সভায় সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ সম্পর্কে প্রশংসা করেছেন। তবে এই প্যাকেজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যেসব খাত প্রণোদনা সুবিধা পায়নি, সেগুলোকেও প্যাকেজের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

আগামী বাজেটে করপোরেট ট্যাক্স কমানো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে করপোরেট ট্যাক্স কমিয়ে আনা হচ্ছে। চলতি বাজেটে এটা কমানো হয়েছে। আগামী বাজেটেও বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। দেশীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবটাই করা হবে।