kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে

নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের

তামজিদ হাসান তুরাগ   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে

চলতি বছরের শুরুতে জাতীয় মূল্যস্ফীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছিল খাদ্য মূল্যস্ফীতি। এর ধারাবাহিকতা ছিল ফেব্রুয়ারিতেও। ক্রমাগত খাদ্য উপখাতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি বাজারকে করছে বেসামাল। তার প্রভাব দেখা গিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বাজারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, খাদ্য উপখাতে মূল্যস্ফীতির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তা বাজার পরিস্থিতির জন্য হবে ভয়াবহ। একদিকে সামনে রমজান অন্যদিকে খাদ্য উপখাতে মূল্যস্ফীতি, সব মিলিয়ে সামনের দিকে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই বাজার নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে দরকার সরকারের সমন্বয়ের। এক দিকে যেমন আমদানি ঠিক রাখতে হবে অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে সাপ্লাইচেইন সচল রাখতে হবে।

বিসিএসের পরিসংখ্যান মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৭০ শতাংশ, জুনে যা ছিল ৬.৫৪ শতাংশ। গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ৫.৪২ শতাংশ। আগস্টে অত্যধিক হারে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬.০৮ শতাংশে।

এর পরের মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬.৫০ শতাংশ। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৫.১২ শতাংশ হয়েছে। অক্টোবরে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল অত্যধিক, যা ছিল ৭.৩৪ শতাংশে। এর মধ্যে শহরের চেয়ে গ্রামে জিনিসপত্রের দাম বেশি বেড়েছে। অক্টোবরে শহরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬.৩ শতাংশ, আর গ্রামে তার চেয়ে বেশি ৬.৬৭ শতাংশ। নভেম্বরে খাদ্য উপখাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে শতকরা ৬.০১ শতাংশ। ডিসেম্বরে খাদ্য উপখাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫.৩৪ শতাংশ। আগের বছরের ডিসেম্বর মাসে এ হার ছিল ৫.৮৮ শতাংশ।

এ ছাড়া নতুন বছরের শুরুর জানুয়ারিতে খাদ্য উপখাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। আগের বছরের জানুয়ারির ৫.১২ শতাংশ থেকে বেড়ে এবার ৫.২৩ শতাংশ হয়েছে। তবে কমেছে খাদ্যবহির্ভূত উপখাতে মূল্যস্ফীতির হার, যা গত বছরের জানুয়ারির ৬.৩০ শতাংশ থেকে কমে এ বছরের জানুয়ারিতে হয়েছে ৪.৬৯ শতাংশ। বছরের শুরুতে ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকলেও পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৩২ শতাংশ। সঙ্গে বাজারে বেড়েছিল চাল, ব্রয়লার মুরগি, ভোজ্য তেল ও চিনির দাম। ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে হয়েছে ৫.৩২ শতাংশ। জানুয়ারির তুলনায় যা .০৩ শতাংশ বেশি। সার্বিক মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫.৪২ শতাংশ, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে ছিল ৫.২৩ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির হ্রাস-বৃদ্ধি পর্যালোচনায় জানুয়ারির তুলনায় গত মাসে চাল, ব্রয়লার মুরগি, ভোজ্য তেল, চিনির দাম বেড়েছিল।

বিবিএস নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে নমুনা দাম সংগ্রহ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের দাম দিয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হয়। আর মূল্যস্ফীতির প্রভাব গরিব মানুষের ওপরই বেশি পড়ে। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশই চলে যায় খাদ্যপণ্য কিনতে। আর খাদ্যপণ্য কিনে যত টাকা খরচ হয়, এর ৫০-৬০ শতাংশ চলে যায় চালের পেছনে। তাই মোটা চালের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর বেশি প্রভাব পড়ে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলে এটি বলা খুব কঠিন হবে যে সামনের দিকের বাজার কেমন হবে। তবে যেহেতু দেশের মানুষের বেশি চাহিদা চালের দিকে সুতরাং বোরো ধান যদি সময়মতো কাটা ও তোলা না হয় তাহলে বোরো মৌসুমে চালের বাজার অস্থিতিশীল থাকতে পারে। সে জন্য আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’

অন্যদিকে সামনে রমজান মাস। এ মাসে বাজারে বেশি চাহিদা থাকে ভোজ্য তেল, খেজুর, ডালসহ নানা পণ্যের। এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কঠোর নিয়ন্ত্রণ বলতে মজুদ বন্ধ করার পাশাপাশি নতুন আমদানিকারকদের পণ্য আমদানির সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে সামনের দুই-তিন মাস বাজার অস্থিতিশীল থাকতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা