kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

করোনায়ও সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে তিন গুণ

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে নিট ২৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনায়ও সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে তিন গুণ

আমানতের সুদ কমে আসায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে মানুষ। এতে প্রতি মাসেই অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। সব মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) নিট ২৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিনিয়োগের বিকল্প সব উৎসের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদ এখন সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু ব্যাংকে টাকা রাখলে সুদ মিলছে ৩ থেকে ৬ শতাংশ। অন্যদিকে শেয়ারবাজারও খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। তাই বিভিন্ন শর্ত পরিপালন করেও সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন মানুষ। এতে নিট বিক্রি বাড়ছে।

প্রতিবছরই বিশাল ঘাটতির বাজেট পেশ করে আসছে সরকার। এই ঘাটতি মেটানো হয় দুটি উৎস থেকে। এগুলো হলো অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক খাত। বৈদেশিক খাত থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা পাওয়া না গেলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয় সরকারকে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র খাত। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়। কিন্তু প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এই লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে পাঁচ মাস না যেতেই অতিক্রম হয়ে যায়। এর পর থেকে লক্ষ্যের অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রি করতে হচ্ছে সরকারকে। ফলে এই খাতে সরকারের সুদ ব্যয় বাড়ছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল মাত্র ৯ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিট তিন হাজার ৬০৯ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। অবশ্য তার আগের মাস জানুয়ারিতে পাঁচ হাজার ২১৫ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। আর গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল এক হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে নিট বিক্রি বলা হয়।



সাতদিনের সেরা