kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

করোনায় পোশাক খাত সংকটে পড়লেও সম্ভাবনা কম নয়

এম সায়েম টিপু   

২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় পোশাক খাত সংকটে পড়লেও সম্ভাবনা কম নয়

বড় কঠিন সময় পার করছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। বিশ্ববাজারে নানামুখী চ্যালেঞ্জে থাকা এই খাতকে কভিড-১৯ আরো প্রবল ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তবে সঠিকভাবে চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি মোকাবেলা করা গেলে বিশ্ববাজারে নিজেদের অংশীদারি বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তৈরি পোশাক খাতের বর্ষীয়ান নেতা সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার ফারুক হাসান। দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর আগামী রবিবার বিজিএমইএ নির্বাচন ও পোশাক খাতের হালনাগাদ নিয়ে জানতে চাইলে সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে এক সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

করোনার প্রভাব ও পোশাকশিল্প নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ফারুক হাসান বলেন, আগামী কয়েকটি বছর দেশের পোশাকশিল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের প্রয়োজনে অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল ভোক্তা চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের বহুমুখীকরণ বা বৈচিত্র্যসাধন, কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব না হলে পোশাকশিল্প নিজেই সার্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে প্রস্তুতিটা বাংলাদেশকে এখনই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা সংকট ও দুর্যোগের প্রভাব মোকাবেলায় পারদর্শী জাতি হিসেবে বাংলাদেশ করোনা মহামারির এই ভয়াল থাবাও রুখে দেবে—এমন প্রত্যাশা অমূলক নয়। পোশাক খাতে বাংলাদেশের রয়েছে প্রায় চার দশকের অভিজ্ঞতা। ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে এই খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিজ। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তৈরি হচ্ছে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। তাই সংকটকে সম্ভাবনায় পরিণত করার এখন উপযুক্ত সময়। এগোতে হবে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে।

একই সঙ্গে বিদেশি মিশনগুলোকে আরো বাণিজ্যবান্ধব হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে। এই খাতের একজন উদ্যোক্তা হিসেবে বলব, পোশাকশিল্প রক্ষায় বা এগিয়ে নিতে একেবারেই নতুন করে ভাবতে হবে আমাদের। সরকার বরাবরই এই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় এই খাতের উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করেন। তবে এবার সরকার, উদ্যোক্তা, ব্যাংক, অর্থনীতিবিদ, গণমাধ্যম—সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ তাঁর আশা সবাই এক হয়ে যদি এই খাতের সমস্যা-সম্ভাবনা খুঁজি, তাহলে এক রকম ফল আসবে। আর না হলে নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে যাবে।

ফারুক হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছি। আমি জানি এই শিল্প কতটা চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়েছে। এই শিল্পে আমাদের অনেক ভালো ভালো অর্জন রয়েছে, কিন্তু সেগুলোর প্রচার-প্রচারণা বেশি হয় না। তা ছাড়া রানা প্লাজা ধসের পর দেশের গার্মেন্ট খাতে যে ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে, কারখানাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের করা হয়েছে—এ বিষয়গুলোও দেশে ও দেশের বাইরে সেভাবে প্রচার করা হয়নি। এখানে ব্যাপক কাজ করতে হবে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘সব চ্যালেঞ্জ আমরা ভালোভাবে মোকাবেলা করে এই শিল্পকে আরো সমৃদ্ধির জায়গায় নিয়ে যেতে পারব। আমাদের ভালো দিকগুলো তুলে ধরতে হবে, বাজার বহুমুখীকরণ করতে হবে, পোশাক বহুমুখীকরণ করতে হবে। তাহলে আমাদের মার্কেট শেয়ার বাড়াতে পারব। সুতরাং পোশাকশিল্পের সামনে আমি অনেক সুযোগ দেখতে পাচ্ছি।’

বিজিএমইএ নির্বাচন নিয়ে ফারুক হাসান বলেন, ‘আমি সম্মিলিত পরিষদেরও নেতৃত্ব দিচ্ছি। বলা যায়, এই পরিস্থিতিতে এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিজিএমইএর সব সাবেক সভাপতি, অন্যান্য নেতৃত্ব এবং সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। তা ছাড়া এই খাত নিয়ে কাজ করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমি গার্মেন্ট খাতকে আরো টেকসই করতে চাই।’