kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৭ জুলাই ২০২১। ১৬ জিলহজ ১৪৪২

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস

জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.৬%

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.৬%

আগামী এক বছরে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে ধারণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর ভিত্তিতে ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। আগের পূর্বাভাসে যা ২ শতাংশ দেখানো হয়েছিল। গত সোমবার ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের দ্বিবার্ষিক আঞ্চলিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস সাউথ এশিয়া ভ্যাকসিনেট’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির অভিঘাতে ২০২০ অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে নেমে ৫.৪ শতাংশ সংকুচিত হয়। এতটা দুর্দশায় এ অঞ্চলের অর্থনীতি সাম্প্রতিক ইতিহাসে আর কখনো পড়েনি। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ২০২১ সালে ৭.২ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, বিদ্যুতের ব্যবহার ও তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধির যে উপাত্ত এরই মধ্যে আসছে, তাতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারের ইঙ্গিত স্পষ্ট। তবে সার্বিক অর্থনীতি এখন নাজুক অবস্থায় থাকায় প্রবৃদ্ধি হবে অসম। বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন ঠিক হলে দক্ষিণ এশিয়া হয়তো ২০২২ সাল নাগাদ আবার মহামারি পূর্ববর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারবে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ভারত ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিশ্বব্যাংকের জানুয়ারির প্রাক্কলনের চেয়ে ৪.৭ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ২০২১ সালে নেপাল ও পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ২.৭ ও ১.৩ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। নেপালের অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের গতি বলছে ২০২৩ সাল নাগাদ দেশটি ৫.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হারে পৌঁছাতে পারে।

ওই প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টিগ শ্যাফার বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখে আমরা উৎসাহিত বোধ করছি। তবে মহামারি এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং অর্থনীতির এই পুনরুদ্ধার নাজুক অবস্থায় থাকায় আমরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এগিয়ে চলার ধারা অব্যাহত রাখতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে তাদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে হবে এবং তাদের সম্পদ বুঝেশুনে বিনিয়োগ করতে হবে যাতে আরো সমন্বিত ও সহিষ্ণু ভবিষ্যতের ভিত গড়ে তোলা সম্ভব হয়।’

ওই প্রতিবেদনে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের সুরক্ষায় সর্বজনীন বীমার ব্যবস্থা, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো ও খাদ্যে মূল্যস্ফীতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যসামগ্রীর ওপর শুল্ক বাধা দূর করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগ যে বিশ্বে সর্বনিম্ন, সে কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা এবং দ্রুত ও গণহারে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোসহ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোতে আরো বিনিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে।