kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

জট কমানোর উদ্যোগ

কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে জাহাজ ভেড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পারে একটি বেসরকারি কম্পানি নিজেদের প্রয়োজনের জন্য এই জেটি নির্মাণ করেছিল। পরে বন্দরের সঙ্গে একটি অপারেশনাল চুক্তি হয়

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৩১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে জাহাজ ভেড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর জেটি এবং টার্মিনালগুলোর অবস্থান উত্তর পারে : এত দিন এসব জেটিতেই পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়ত। এই প্রথম কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পারে নতুন নির্মিত বেসরকারি জেটিতে গতকাল মঙ্গলবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়িয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরে খোলা পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে বাড়তি সময় লাগায় চাপ কমাতে সেই জেটিতে জাহাজ ভিড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে উত্তর পারও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলো।

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পারে একটি বেসরকারি কম্পানি নিজেদের প্রয়োজনের জন্য এই জেটি নির্মাণ করেছিল। পরে বন্দরের সঙ্গে একটি অপারেশনাল চুক্তি হয়। এর পর থেকে জাহাজ ভেড়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়। প্রথমবার পণ্য নিয়ে জাহাজটি ভিড়তে গিয়েছিল গত ২৩ মার্চ। কিন্তু নাব্যতা সংকটের কারণে জাহাজটি শেষ পর্যন্ত জেটিতে ভিড়তে পারেনি। এরপর জাহাজটি পণ্য নিয়েই বহির্নোঙরে ফেরত যায়। এরপর জেটির পাশে খনন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। খনন শেষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাহাজটি জেটিতে ভিড়তে সক্ষম হয়। বিকেলেই জাহাজ থেকে পণ্য নামানো শুরু হয়। ‘দিনা ওশান’ জাহাজটি দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপ বিএসআরএমের জন্য স্ক্র্যাপ বা পুরনো জাহাজভাঙার পণ্য নিয়ে এসেছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার আরিফুর রহমান বলছেন, প্রথমবার নাব্যতা সংকটের কারণে জাহাজ ভিড়তে পারেনি। পরে খনন শেষে সার্বে করার পর গত সোমবার আমরা সরাসরি গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হই। এরপর মঙ্গলবার জাহাজটি ভেড়ে। এখন থেকে নিয়মিতই এই ধরনের জাহাজ ভিড়তে পারবে।

এত দিন কর্ণফুলী নদীর উত্তর পারে অবস্থিত বন্দরের নিজস্ব জেটি-টার্মিনালে পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়ত। দক্ষিণ পারে কয়েকটি জেটি আছে কিন্তু সেগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পণ্য ওঠানামার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বেসরকারি কম্পানির নির্মিত জেটিতে বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানোর উদ্যোগ এই প্রথম।

জানতে চাইলে ‘দিনা ওশান’ জাহাজের শিপিং এজেন্ট এভারেট শিপিংয়ের পরিচালক আসিফ ইফতেখার হোসাইন বলছেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে এই ধরনের স্ক্র্যাপ বা খোলা পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে গড়ে ২০ থেকে ২৫ দিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এখন এই জেটিতে সরাসরিই জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে বহির্নোঙরে বিপুল সময় অলস বসে থাকার সময় সাশ্রয় হচ্ছে। তিনি বলছেন, বন্দর জেটিতে ভিড়লে পণ্য পরিবহন খরচ অনেক কমত এটা ঠিক; কিন্তু ২৫ দিন বসে থাকার ফলে যে আর্থিক ক্ষতি যোগ হতো তার বদলে কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে ভেড়ানো কিছুটা হলেও সাশ্রয় হবে।

জাহাজটি ১৮ দিন আগে জাপানের টোকিও বন্দর থেকে রওনা দিয়ে গত ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় পৌঁছে। ২৩ মার্চ জেটিতে ভেড়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার জেটিতে ভিড়তে সক্ষম হয়। বিকেলেই পণ্য ওঠানামার কাজ শুরু করে। জাহাজটি থেকে পণ্য নামানোর কাজটি করছে চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটর রুহুল আমিন অ্যান্ড ব্রাদার্স। যদিও বার্থ অপারেটররা শুধু বন্দর নির্ধারিত এবং দরপত্রে অনুমোদিত জেটিতেই কাজ করতে পারেন কিন্তু এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে নদীর ওই পারে তাঁরা কিভাবে কাজটি করছেন জানতে চাইলে বার্থ অপারেটর রুহুল আমিন অ্যান্ড ব্রাদার্সের কর্ণধার শাহ আলম বাবুলকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, জাহাজটি থেকে পণ্য নামিয়ে স্ক্র্যাপ পণ্যগুলো আনোয়ারা থেকে সড়কপথে কর্ণফুলী সেতু পার হয়ে বিএসআরএমের সীতাকুণ্ডের কারখানায় নেওয়া হবে। সেখানে প্রক্রিয়াকরণ-পরিশোধন করার পর লোহা-স্টিল সামগ্রী তৈরি হবে। আনোয়ারা থেকে এত দীর্ঘ সড়কপথ পাড়ি দিলেও বহির্নোঙরে ২০-২৫ দিন জাহাজ অপেক্ষমাণ থাকার চেয়ে অনেক সাশ্রয় হবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।



সাতদিনের সেরা