kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

পাটপণ্য রপ্তানিতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে অ্যাসোসিয়েশনের সনদ

জিয়াদুল ইসলাম   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাটপণ্য রপ্তানিতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে অ্যাসোসিয়েশনের সনদ

পাটপণ্যে রপ্তানির সব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে। তবে বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা উত্তোলনে উপযুক্ত অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ জুটমিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যয়ন সনদ নেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্প্রতি পাটপণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রত্যয়ন সনদ প্রদান বাধ্যতামূলক করাসংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভার কার্যবিরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ১৯ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি-১) মো. হাফিজুর রহমান। ওই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসংক্রান্ত একটি চিঠি গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও পাট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা যায়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পাটপণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা উত্তোলনে বাংলাদেশ জুটমিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যয়ন প্রদান বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে অর্থ বিভাগে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি সভা করে পাটপণ্য খাতে বিদ্যমান অ্যাসোসিয়েশন সরেজমিন পরিদর্শন করে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সদস্যদের রপ্তানি পণ্য, কর্মপরিধি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সভায় ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় সিনিয়র সহকারী সচিব মো. হাফিজুর রহমান জানান, পাটপণ্যের অনুকূলে রপ্তানি ভর্তুকি প্রদানের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্য, পাটজাত চূড়ান্ত পণ্য (হেসিয়ান, সেকিং, সিবিসি) এবং পাট সুতা (ইয়ার্ন ও টোয়াইন) এই তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে পাট, পাটজাত পণ্য  ও বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির বিপরীতে বাংলাদেশ জুটমিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং পাট সুতার ক্ষেত্রে রপ্তানি ভর্তুকি উত্তোলনে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জুট গুডস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা পাটপণ্য উৎপাদনকারী মিল ও কারখানার উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করে কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। তবে ওই অ্যাসোসিয়েশনের জনবলে ঘাটতি রয়েছে এবং সক্ষমতাও সন্তোষজনক নয় মর্মে জানানো হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম হচ্ছে শুধু বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্যের ক্ষত্রে টিটি, এলসি ও ডকুমেন্টারি কালেকশন যে পদ্ধতিতেই রপ্তানি করা হোক—নগদ সহায়তা উত্তোলনে বাংলাদেশ জুটমিলস অ্যাসোসিয়েশন অথবা বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রত্যয়ন গ্রহণ করতে হয়। পাটজাত চূড়ান্ত পণ্য ও পাট সুতার ক্ষেত্রে শুধু টিটির মাধ্যমে রপ্তানি করা হলে নগদ সহায়তা উত্তোলনে এই দুটি অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রত্যয়ন সনদ নিতে হয়। এই দুটি পাটপণ্যের ক্ষেত্রে এলসি এবং ডকুমেন্টারি কালেকশনের মাধ্যমে রপ্তানি করা হলে প্রত্যয়ন সনদ গ্রহণের প্রয়োজন নেই। তিনি উল্লেখ করেন, টিটির মাধ্যমে পাটপণ্যে মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ হয়ে থাকে। তাই রেকর্ড সংরক্ষণ ও সঠিক ডকুমেন্টেশনের সুবিধার্থে সব ক্ষেত্রেই প্রত্যয়ন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা সমীচীন হবে। এ ছাড়া বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্যের ক্ষেত্রে উপযুক্ত অ্যাসোসিয়েশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল রাখা যেতে পারে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি জানান, পাটপণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং ইস্যু নিয়ে নেগোসিয়েশনের সময় উল্লিখিত অ্যাসোসিয়েশন দুটির কাছে পাটপণ্য রপ্তানির সব তথ্য না থাকায় বেশ সমস্যা হয়েছে। ফলে সব পাটপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেই প্রত্যয়ন প্রদানের বিধান সমীচীন হবে।