kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

অভিবাসনে নারী শ্রমিক

দক্ষদের আয় চার গুণ বেশি

তামজিদ হাসান তুরাগ   

৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দক্ষদের আয় চার গুণ বেশি

দিন দিন বিদেশে নারীর কর্মসংস্থান বাড়ছে। তবে সেই হারে বাড়েনি নারী শ্রমিকদের দক্ষতা। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের বাইরে যদি দক্ষ নারী শ্রমিক পাঠানো হয়, তাহলে তাঁদের আয় সেখানে কর্মরত গৃহকর্মীদের তুলনায় হবে চার গুণেরও বেশি। অর্থাৎ গৃহকর্মীরা যদি আয় করেন ১৬ হাজার টাকা, সেই হিসাবে একজন দক্ষ নারী শ্রমিক আয় করতে পারেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা এক লাখ টাকার বেশি।

তবে বিবিএস বলছে ভিন্ন কথা। তাদের জরিপ মতে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শ্রমিকরা গড়ে প্রতি মাসে আয় করছেন ৩৮ হাজার টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা শ্রমিকরা গড়ে প্রতি মাসে আয় করছেন ২৯ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রেও দেখা যায় তাঁদের আয় অদক্ষ, বিশেষ করে যাঁদের ভাষাজ্ঞান খুবই কম, তাঁদের তুলনায় দুই গুণেরও বেশি।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির গত কয়েক বছরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দেখা গেছে, ১৯৯১ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন দেশের ৯ লাখ ২৪ হাজার ৪১৫ জন নারী। শুধু ২০১৯ সালে বিদেশে গেছেন এক লাখ চার হাজার ৭৮৬ জন নারী। তবে কতজন নারী শ্রমিক দক্ষ ও অদক্ষ, এর সঠিক হিসাব নেই তাদের কাছে। বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের দেওয়া তথ্য মতে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন পর্যন্ত অভিবাসিত হয়েছেন ১৮ হাজার ৮১৩ জন নারী। এর মধ্যে বেশির ভাগ নারী অদক্ষ গৃহকর্মী।

তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অভিবাসন ব্যয় জরিপ ২০২০ সালের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অভিবাসিত হওয়া নারীর সংখ্যা চার লাখ, যা দেশের মোট অভিবাসিতদের মধ্যে ১৪.৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৮৩.৮ জন গৃহকর্মী, যাঁদের গড় আয় সাড়ে ১৬ হাজার টাকা।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বাংলাদেশ থেকে বেশির ভাগ নারী বিদেশে যান গৃহকর্মী হিসেবে। তাঁদের বেতন দেখা যায় ১৬ হাজার থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে যাঁরা দক্ষ ও শিক্ষিত, যাঁরা নার্স এবং কেয়ার গিভার হিসেবে যান, তাঁরা মাসে আয় করেন ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকারও বেশি।’

গৃহকর্মী ও নির্যাতন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা লাবণ্য ইসলাম (ছদ্মনাম)। তিনি ২০১৮ সালে সৌদি আরবে যান গৃহকর্মী হিসেবে। তাঁকে বলা হয়েছিল, বেতন হবে ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি বেতন পান ২০ হাজার টাকা। মাঝে মাঝে তাঁকে নির্যাতনের শিকার হতে হতো। ফলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে ফিরতে হয়েছে দেশে। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের দেওয়া তথ্য মতে, করোনাকালে লাবণ্যের মতো দেশে ফিরে আসা এমন নারীর সংখ্যা ৫০ হাজার। তবে তাঁদের মধ্যে কতজন নারী শ্রমিক নির্যাতনের শিকার, এর সঠিক হিসাব নেই।

এ বিষয়ে রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘দেশ থেকে একজন নারীকে যতটা সম্ভব দক্ষ করে বিদেশে পাঠানো উচিত।’

মন্তব্য