kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণ

বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগে অগ্রাধিকার চায় সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগে অগ্রাধিকার চায় সিপিডি

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মসৃণ উত্তরণে নতুন নতুন বাণিজ্য চুক্তি ও ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বেসরকারি গবেষণা সংস্থাটি বলেছে, এ জন্য ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিবেশ সৃষ্টি করা; কর আহরণ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ ছাড়া একটি উত্তরণকালীন কৌশল নিতে হবে। বাণিজ্য সুবিধাগুলো ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অর্থনৈতিক ও কূটনীতি জোরদার করতে হবে। এ জন্য টাস্কফোর্সে পররাষ্ট্র, বাণিজ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে আরো বেশি সম্পৃক্ত করার সুপারিশও করেছে সিপিডি। গতকাল বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনাসভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি সমন্বয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের জন্য তা নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসবে। তবে আমি মনে করি, এর ফলে আগামী দিনে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমাদের হতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই উন্নতির ফলে আমাদের ভাবমূর্তি বিশ্বের কাছে এক নতুন মাত্রা পাবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজারে আরো বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দেবে।’

আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশ ২০২৬-এ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে কিন্তু এলডিসি হিসেবে যেসব সুবিধা বর্তমানে রয়েছে, তা ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন সময়ে হারাবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার প্রস্তুতির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা গত পাঁচ বছরে যে আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন দেখেছি তার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হচ্ছে আমরা উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করছি। তবে এই উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ যেন শুধু সূচকের দিক দিয়ে না হয় সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে। আর উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় জন্য যেসব চ্যালেঞ্জ আছে তার জন্য বিশেষ বাণিজ্যনীতির দিক থেকে আমাদের অনেক পরিবর্তন আনতে হবে।’

বক্তারা বলেন, এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণের জন্য কী কী করণীয় তা নিয়ে কম আলোচনা হয়। বিদেশ থেকে কিভাবে বেশি সাহায্য-সহায়তা পাব, এই নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। কিন্তু কোন কোন সমস্যার কারণে এই সাহায্য নিতে হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা বেশি হয় না। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও যদি বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য আমরা ব্যস্ত হয়ে যাই, তাহলে ভুল হবে। তবে দেশের অভ্যন্তরে সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগী হতে হবে। এর আগে আলোচনাসভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির স্থায়ী সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক প্রমুখ।

মন্তব্য