kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

বাজেটে অতালিকাভুক্ত কম্পানির কর ১৫% করার দাবি

পুঁজিবাজারে আরো সুবিধা চাই

সজীব হোম রায়   

৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুঁজিবাজারে আরো সুবিধা চাই

আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নে একগুচ্ছ সুবিধা দাবি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংস্থাটি আগামী বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কম্পানির করপোরেট হারের ব্যবধান বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার কথা বলেছে। একই সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংকের আয়ের ওপর করহার কমিয়ে ২৭.৫ শতাংশ করা, তালিকাভুক্ত কম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ড ও ইউনিট ফান্ড থেকে অর্জিত আয়ের এক লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত বিবেচনা করার প্রস্তাব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

পাশাপাশি জিরো কুপন বন্ডে সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর আয় করমুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী বাজেটকে সামনে রেখে গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে এ প্রস্তাবগুলো করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, বিএসইসি সর্বমোট আটটি প্রস্তাব করেছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, আগামী বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কম্পানির মধ্যকার করহারের ব্যবধান বাড়ানো। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কম্পানির করহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩২.৫০ শতাংশ করা হয়েছে। আর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানির করহার অপরিবর্তিত অর্থাৎ ২৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। ফলে আগে তালিকাবহির্ভূত করের ব্যবধান ১০ শতাংশ থাকলেও চলতি বাজেটে সেটি সাড়ে ৭ শতাংশ কমানো হয়েছে। বিএসইসি চাচ্ছে আগামী বাজেটে এই হারের ব্যবধান বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করতে। অর্থমন্ত্রীর কাছে দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদেশি/বহুজাতিক কম্পানিসহ ভালো কম্পানিগুলোর পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনের প্রয়োজন কম। এদের পুঁজিবাজারে আনতে বাজেটারি সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। তাই তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কম্পানির মধ্যকার করহারের ব্যবধান সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ সালের সিক্সথ শিডিউল পার্টে এর প্যারা ৪০ অনুযায়ী ব্যাংক, বীমা বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাদে সব ধরনের করদাতারা জিরো কুপন বন্ড থেকে আয় করমুক্ত। বিএসইসি প্রস্তাব করেছে আর্থিক, অ-আর্থিক, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে জিরো কুপন বন্ডের জন্য প্রযোজ্য কর মুক্ত করে দেওয়া হোক। অর্থাৎ বিদ্যমান জিরো কুপন বন্ডের ক্ষেত্রে যে রাজস্ব প্রণোদনা দেওয়া আছে তা অন্য শ্রেণির বন্ডের ক্ষেত্রে সমকর সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

পুঁজিবাজারে সুকুক, অ্যাসেট ব্যাকড সিকিউরিটিজ (এবিএস) ইস্যু অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিএসইসি এটিকে অবাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করেছে। সংস্থাটি তাদের প্রস্তাবে বলেছে, একটি সুকুক, এবিএস সিকিউরিটিজ ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন উত্তোলনের ক্ষেত্রে অরিজিনেটর কম্পানিকে সম্পদ মূল্যের প্রায় ২১ শতাংশ কর/ফি দিতে হয়। বর্তমান আইনানুযায়ী তাই এটি ইস্যু করা প্রায় অসম্ভব। প্রস্তাবে উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স ১৯৮৪, স্ট্যাম্প ডিউটি অ্যাক্ট ১৮৯৯, রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৯০৮, ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স এবং সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি অ্যাক্ট ২০১২ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধির সংশ্লিষ্ট অংশে সংশোধন করার কথা বলেছে বিএসইসি।

ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৪-এর ধারা ৫৪ ও ৫৬ অনুসারে উেস কর কর্তনের হার কম্পানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, নিবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং অনিবাসীর ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ। লভ্যাংশ প্রদানকারী কম্পানি তার মুনাফার ওপর কর দেয়। আবার লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কর কর্তন দ্বৈত করের সৃষ্টি করে। এ ধরনের উেস কর পরিহার করা হলে আরো বেশি লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করে বিএসইসি। তাই লভ্যাংশ থেকে দ্বৈত কর কর্তনের বিধান বাতিলের প্রস্তাব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৪ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ড ও ইউনিট ফান্ড থেকে অর্জিত আয় যথাক্রমে ৫০ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা করমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এই করমুক্ত আয় এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে বিএসইসি।

মন্তব্য