kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

সংশোধিত এডিপি এক লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকার

কাটছাঁটেও ব্যয় বাড়ছে স্বাস্থ্য খাতে

তামজিদ হাসান তুরাগ   

২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাটছাঁটেও ব্যয় বাড়ছে স্বাস্থ্য খাতে

করোনাকালীন সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা কমছে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। তবে তার প্রভাব পড়েনি স্বাস্থ্য খাতে বরং এই খাতে ব্যয় বাড়ছে তিন হাজার ২০৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী আরএডিপিতে এই খাতের বরাদ্দ সাত হাজার ৮৫৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে সংশোধিত চূড়ান্ত এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে এক লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। এতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে হচ্ছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর আগে সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাজেট ধরা হয়েছিল দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সভায় চূড়ান্ত উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দেওয়া হবে। গণভবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকছে পরিবহন খাতে ৫২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ভৌত অবকাঠামো খাতে ২৫ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা ও চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শিক্ষা খাতে ২৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে ১৮ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। কৃষি খাতে আট হাজার ৩৮২ কোটি টাকা, পানিসম্পদ খাতে পাঁচ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা এবং জনপ্রশাসন খাতে চার হাজার ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিদেশি উৎসের বরাদ্দ থেকে কাটছাঁটে আকারে সবচেয়ে বেশি কমছে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে। মূল এডিপি থেকে বরাদ্দ কমছে পাঁচ হাজার ৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এডিপিতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ১২১ কোটি টাকা। এখন তা কমে দাঁড়াচ্ছে সাত হাজার ৮১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরের এডিপিতে মোট বরাদ্দের ৩২.৮৫ শতাংশের জোগান আসার কথা বিদেশি ঋণ সহায়তা থেকে। গত ছয় মাসে এই উৎস থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। সাধারণত বছরের প্রথম দিকে এডিপি বাস্তবায়ন এবং দেশি-বিদেশি অর্থছাড়ের গতি কম থাকে। আগের তিন অর্থবছরের প্রথমার্ধে বিদেশি উৎসের ব্যয়ের প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ১৭ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যয় হয় ১৯ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় ছিল আট হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের যুগ্ম প্রধান (কৃষি, শিল্প ও সমন্বয় উইং) মো. ছায়েদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে কিছু প্রকল্পে টাকা খরচ হচ্ছে না। সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক ঋণ সহায়তা খাত থেকে শুধু সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা কমছে। এ ছাড়া এডিপি ও সংশোধিত এডিপির মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকছে না। এনইসি সভায় আরএডিপি চূড়ান্ত করা হবে।’

আরডিপিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সংখ্যা : ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত মোট প্রকল্পের সংখ্যা এক হাজার ৭৮৫টি। এর মধ্যে নতুন অনুমোদিত ১৭২টি প্রকল্প এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপি থেকে বাদ পড়া ২৮টি প্রকল্প। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে চলমান ১০১টি প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে আলাদা তালিকা হিসেবে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা