kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

সামাজিক সুরক্ষা ভাতায় বাদ পড়েছে ৪৬% মানুষ

স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অঞ্চল বৈষম্য আছে। -ড. শামসুল আলম, জ্যেষ্ঠ সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামাজিক সুরক্ষা ভাতায় বাদ পড়েছে ৪৬% মানুষ

সামাজিক সুরক্ষা ভাতা থেকে ৪৬ শতাংশ মানুষ বাদ পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। তিনি বলেছেন, ‘এই ভাতা যাদের পাওয়ার দরকার নাই তারা পাচ্ছে, আর যাদের পেতে হবে, তাদের অনেকেই বাদ পড়ছে। গতকাল রবিবার ‘করোনার প্রভাবে এসডিজি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ : স্বাস্থ্য ও শিক্ষা’ অনলাইন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনলাইন সংলাপটি জার্মানির ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) ও ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেভেলপমেন্ট জার্নালিজম ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) ও ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির।

শামসুল আলম বলেন, ‘সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বড় ধরনের অপচয় আছে। আমি সেটা অস্বীকার করব না। কারণ এটা একটা গবেষণার ফলাফল থেকে পাওয়া। আমরা চাইব, ২০২৫ সালে সব দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সুরক্ষার কোনো না কোনো কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।’

তিনি আরো বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আমরা শিক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথা বলছি। শিক্ষা ব্যয় ৪ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলেছি। যেটি বর্তমানে ২.৬ শতাংশে আছে। সেটি করতে পারলেও বড় রকমের উন্নতি হবে।’

শ্রেণিগত অসাম্য না থাকলেও বাংলাদেশে অঞ্চল বৈষম্য আছে উল্লেখ করে শামসুল আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা, দারিদ্র্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অঞ্চল বৈষম্য আছে। সে জন্য দেখবেন নারায়ণগঞ্জে ৩ শতাংশ দরিদ্র, অথচ রংপুরে ৭১ শতাংশ। এ জন্য আমরা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অনেক পদক্ষেপ রেখেছি। আপনারা নজরদারি করবেন সেই প্রস্তাবগুলো কতটা বাজেটে প্রতিফলিত হচ্ছে।’

এর আগে সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। এ জন্য বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বরাদ্দ দরিদ্র, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। সরকারি সেবার মান উন্নত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার পেছনে পরিবারের অর্থ ব্যয় কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সংলাপে মূল প্রবন্ধের ওপর আরো আলোচনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক, রোগতত্ত্ববিদ ও মানিকগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত শর্মী।

মন্তব্য