kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

প্রাকবাজেট আলোচনা আজ থেকে

বিনিয়োগ বাড়াতে থাকবে নানা সুবিধা

ফারজানা লাবনী ও সজীব হোম রায়   

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনিয়োগ বাড়াতে থাকবে নানা সুবিধা

আগামী অর্থবছরের বাজেটে করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে ওঠার ছক বা কৌশলপত্র থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। বাজেটে দেশি শিল্প রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে দেওয়া হবে বিভিন্ন সুবিধা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে থাকবে বিশেষ নজর। নতুন কর-ভ্যাট-শুল্ক আরোপের পরিবর্তে আওতা বাড়ানো হবে। করপোরেট করহার কমানো হতে পারে। আর বাড়ানো হবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এরই মধ্যে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও দপ্তর কাজ শুরু করেছে। সূত্র জানায়, বাজেটের প্রধান লক্ষ্য থাকবে অর্থনীতিকে দ্রুত গতিশীল করে আবার আগের ধারায় ফিরিয়ে আনা। তবে এবারে বাজেটে ব্যয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে মন্ত্রণালয়। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় যাতে না করা হয় সে জন্য এরই মধ্যেই প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে। এবারে নতুন ভ্যাট-কর-শুল্ক আরোপের পরিবর্তে আওতা বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে।

করোনাকাল দেখিয়েছে আমাদের স্বাস্থ্য খাত কতটা নড়বড়ে। এ জন্য আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা খাতকে শীর্ষস্থানে রাখা হচ্ছে। কভিড-১৯ পরিস্থিতি সামলাতে এবারের নতুন এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বাড়ানো হবে। ৯টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে শীর্ষস্থানে থাকবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা খাত। আসবে একগুচ্ছ প্রকল্প। নতুন এসব প্রকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখবে। আগামী বাজেটে করোনার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো হবে। বিশেষ বরাদ্দ থেকে আরো ভ্যাকসিন কেনা বাবদ অর্থ ব্যয় করা হবে। শুধু ভ্যাকসিন নয়, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীও কেনার কথা থাকবে আগামী বাজেটে।

করোনার প্রথম ঢেউ মোকাবেলায় সরকার সব মিলিয়ে ২৩টি প্যাকেজে এক লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এটি জিডিপির ৪.৪৪ শতাংশ। ১০ হাজার কোটি টাকার আরো একটি প্রণোদনা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এটি অনুমোদন হলে প্রণোদনা প্যাকেজের সংখ্যা হবে ২৪টি। শিল্প খাতকে চাঙ্গা করতে, বিনিয়োগ বাড়াতে এবং সর্বোপরি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রণোদনা ঘোষণা করা হবে। কর অবকাশ প্রাপ্ত খাতের সংখ্যা বাড়ানো হবে। তৈরি পোশাক শিল্পের সব সুবিধা বহাল থাকবে। উৎস করে ছাড় দেওয়া হতে পারে। দেশের এসএসই খাতের সব সুবিধা বহাল রাখাসহ আধুনিক বিপণনের সুবিধা সৃষ্টিতে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে কাজে লাগাতে পরিকল্পনা থাকবে। পুরনো সরকারি কলকারখানা বন্ধ করে সেসব আধুনিকায়নে বড় ধরনের পরিকল্পনার কথা থাকবে।

আগামী বাজেট বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনাকে সামনে রেখে আমরা সব কিছু নতুনভাবে করছি। নতুন বাজেটে মানুষ যাতে ভালো থাকে আমরা সে ব্যবস্থা করতে চাই। স্বাস্থ্য খাত বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা, কৃষিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

আগামী বাজেটে অর্থনীতিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার দেশি শিল্প, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেবে। করোনার ধাক্কায় বিদেশফেরত, বেকার, করোনায় চাকরি হারিয়েছে এমন মানুষ যাতে সামাজিকভাবে বোঝা না হয় সে জন্য আগামী বাজেটে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এনবিআরে চিঠি পাঠিয়ে উৎপাদন-ব্যবসা-সেবা খাতসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে চলমান সমস্যা চিহ্নিত করতে খাতভিত্তিক আলোচনায় বসতে নির্দেশ দিয়েছেন। আজ ১ মার্চ সোমবার থেকে এনবিআর খাতভিত্তিক প্রাক-বাজেট আলোচনা শুরু করবে। গতবারের তুলনায় এবারে এনবিআরের খাতভিত্তিক বৈঠকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি থাকবে। প্রথম দিনের বৈঠক হবে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে। এরপর বিভিন্ন চেম্বার, পুঁজিবাজরসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, আর্থিক খাত, তৈরি পেশাক খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন, কাগজ, মুদ্রণ, নির্মাণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এবারে ৭০টি বৈঠক থাকবে।

এনবিআর সদস্য (করনীতি) আলমগীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, এবারে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বাজেট আসছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নির্দেশে প্রত্যেক খাতের সমস্যা আলাদাভাবে শুনে তা যাচাই-বাছাই করে বাজেট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা, প্রতিটি খাতের সমস্যার সমাধানে বিস্তারিত প্রস্তাব শুনতে প্রয়োজনে খাতভিত্তিক বৈঠকের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তাদের বাজেট বিষয়ে প্রস্তাবনা কতটা গ্রহণ করা সম্ভব তা এনবিআরের বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপর অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা যাচাই-বাছাই করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠাবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে তা দেখে প্রয়োজনে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে চূড়ান্ত করে প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্তিতে নির্দেশ দেবেন।

মন্তব্য