kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

করোনায় শ্রমিকের আয় কমেছে ৭০%

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় শ্রমিকের আয় কমেছে ৭০%

২০১৯ থেকে ২০২০ সালে চারটি জেলার মজুরিভিত্তিক শ্রমিকের আয় কমেছে ৭০ শতাংশ। এ সময়ে শুধু ২.২৭ শতাংশ শ্রমিকের আয় বেড়েছে। মজুরিভিত্তিক শ্রমিকের মধ্যে ২৮ শতাংশের আয়ে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসেনি। গতকাল সানেম আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনায় এক জরিপের তথ্য তুলে ধরতে এ কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রহমান।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যাকশনএইডের বাংলাদেশ পরিচালক ফারাহ কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও রিসার্চ পরিচালক সায়েমা হক বিদিশা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সায়েদ আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সানজিদা আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আবু ইউসুফ, সুইস কন্টাক্টের টিম লিডার নাদিয়া আফরিনন শামস, ব্র্যাকের জেন্ডার রিপ্রেজেন্টেটিভ দিবা ফারাহ হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মাহতাব উদ্দিন।

দেশের তরুণদের ওপর করোনা মহামারির প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পেতে সানেম ও অ্যাকশনএইড এই জরিপটি করেছে। কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও বগুড়া জেলার এক হাজার ৫৪১টি খানার ওপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরের ১৩ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। মূলত করোনার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর মানুষের ওপর কী ধরনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, সেই বিষয়গুলো গবেষণার ডাটা দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। একই সঙ্গে এই জরিপে তরুণদের মধ্যে নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রবণতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সচেতনতার মাত্রাও বুঝতে চাওয়া হয়েছে। জরিপে জেন্ডারবিষয়ক বিভিন্ন ইস্যু যেমন নারীর প্রতি সহিংসতা, নারীর কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়ন এবং বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে নারীর অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছে। জরিপে ১৫-৩৫ বছর বয়সীদের যুব জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, এই চারটি অঞ্চলে করোনার প্রকোপের পর মজুরিভিত্তিক চাকরিজীবীর মধ্যে ৪.৫২ শতাংশ জনগোষ্ঠী তাদের চাকরি পরিবর্তন করেছে। মজুরি কমে যাওয়ায় ৪৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী চাকরি পরিবর্তন করেছে। আর ১৮.৪২ শতাংশ মজুরি কেটে দেওয়া, ১১ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে চাকরিচ্যুত করা ও ১৫ শতাংশকে জোরপূর্বক চাকরি বদল করানোর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে। আবার চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবীর মধ্যে ৮১.৭৬ শতাংশ মানুষের আয় কমে গেছে। পণ্য বিক্রি ও মুনাফা কমে যাওয়া আয় কমে যাওয়ার মূল কারণ। গত মার্চ থেকে প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তবে জিনিসপত্রের বেচাকেনা কমে গেলেও ব্যবসা বন্ধ হওয়ার মূল কারণ লকডাউন। তবে এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৫ শতাংশ প্রাথমিক ও ২৩ শতাংশ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। এই চারটি জেলার ২২.৭ শতাংশ নিয়মিত অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু ৫১ শতাংশ অংশগ্রহণ করেনি। গড়ে এই চারটি জেলার ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না।

জরিপের ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা গ্রামের এবং ১৫ শতাংশ শহরের। অংশগ্রহণকারীদের ১৯ শতাংশ অবিবাহিত এবং ৮১ শতাংশ বিবাহিত। বিবাহিত নারীদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ জানিয়েছেন তাঁরা স্বামীদের দ্বারা কোনো ধরনের শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। কুড়িগ্রামে এই হার ৪১ শতাংশ, সাতক্ষীরাতে ২২ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৮ শতাংশ এবং বরগুনায় ৫৫ শতাংশ। স্বামী ছাড়া অন্য কারো মাধ্যমে শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বিবাহিত নারীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ, অবিবাহিত নারীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ। কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার হওয়ার পরে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন ৫ শতাংশ নারী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আবু ইউসুফ বলেন, করোনা-পরবর্তী সময় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প। অনেক তরুণ এই এসএমই খাতের উদ্যোক্তা। সরকারের উচিত একটা ডাটা তৈরি করে তাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করা।

সুইস কন্টাক্টের টিম লিডার নাদিয়া আফরিনন শামস বলেন, আলোচনায় শ্রমবাজার এবং শিক্ষার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে কভিডের প্রভাবের অন্তর্ভুক্তিকরণ গুরুত্বের দাবি রাখে। ব্র্যাকের জেন্ডার রিপ্রেজেন্টেটিভ দিবা ফারাহ হক বলেন, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিয়ের যে উচ্চহার তার সমাধানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।