kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

আখাউড়া বন্দর দিয়ে সব পণ্য আমদানি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আখাউড়া বন্দর দিয়ে সব পণ্য আমদানি

অচিরেই আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে নিষিদ্ধ ব্যতীত সব ধরনের পণ্য আমদানি করা যাবে। আগে মাত্র সাতটি পণ্যের আমদানির অনুমতি ছিল, যেগুলো একেবারেই আসত না বললেই চলে। যে কারণে বন্দর দিয়ে আমদানি চলে যায় শূন্যের কোঠায়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের চেষ্টায় মূলত পণ্য আমদানিতে পূর্ণাঙ্গতা পেল আখাউড়া স্থলবন্দর। গত ৯ ফেব্রুয়ারি আনিসুল হক তাঁর ঘনিষ্ঠজন আখাউড়া পৌরসভার মেয়র মো. তাকজিল খলিফার কাছে বিষয়টি অবগত করেন। বুধবার তিনি বিষয়টি জানানোর পরপরই ব্যবসায়ীদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। বিতরণ করা হয় মিষ্টি।

বন্দরের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ব্যাবসায়িক কার্যক্রম ব্যাপক গতি পাবে। নানা কারণে বাড়বে যাত্রী সংখ্যাও। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে। বন্দরটি দিয়ে ভারতীয় শাড়িসহ মেয়েদের বিভিন্ন পোশাক, কসমেটিকস আমদানি বেশি হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিষয়টি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ব্যাবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে এটিকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পর থেকেই গতি বাড়ে ব্যাবসায়িক কার্যক্রমের। এই বন্দর দিয়ে যাওয়া পণ্য ভারতের সেভেন সিস্টারস হিসেবে সাতটি রাজ্যের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাত। এর মধ্যে পাথর, রড, সিমেন্ট, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্য ছিল উল্লেখযোগ্য। এক পর্যায়ে বন্দরটি দিয়ে প্রচুর পরিমাণে মাছ রপ্তানি শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত আছে। তবে অন্যান্য পণ্য এখন খুব বেশি একটা যাচ্ছে না। ভারতের ওই রাজ্যগুলোতে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়া, সেখানে বিভিন্ন কারখানা স্থাপন হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে অন্যান্য পণ্য রপ্তানি একেবারেই কমে আসে। তবে আগের তুলনায় যাত্রী পারাপার কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বিশেষ করে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেতে বাংলাদেশের বেশ কিছু এলাকার মানুষ এই বন্দরটি ব্যবহার করে।

আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে বন্দরটির ব্যাবসায়িক কার্যক্রম তুলনামূলক অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। এখন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মাছ রপ্তানি হয়। যে কারণে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই সব পণ্য আমদানি অনুমতির জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার কথাও বলা হয়। মূলত মন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ক কোনো প্রজ্ঞাপন পাইনি। মূলত আইনমন্ত্রীর মাধ্যমেই বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। মন্ত্রীর নির্দেশে মেয়র আমাদের বিষয়টি অবগত করেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক কারণে ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় পণ্য আমদানিতে অনেকেই আগ্রহ দেখাবেন। যে কারণে ব্যাবসায়িক গতি বেড়ে বন্দর দিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায়ীরাও তাঁদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা