kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

ঋণ পরিশোধে আরো ছাড় পোশাক মালিকদের

সজীব হোম রায়   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঋণ পরিশোধে আরো ছাড় পোশাক মালিকদের

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তৈরি পোশাক খাতের মালিকরা আরো সুবিধা পাচ্ছেন। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেওয়ার জন্য এই খাতের ব্যবসায়ীদের পাঁচ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এটির গ্রেস পিরিয়ড এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি এতে অনুমোদন করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, তৈরি পোশাক খাত করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের রপ্তানি খাতের সবচেয়ে বড় মাধ্যম এই খাত। তাই এই খাতের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। কিন্তু সেটার সুযোগ নিয়ে একের পর এক সুবিধা দাবি জানানো ঠিক না। এতে নৈতিক বিপর্যয় তৈরি হয়। আবার সরকারের উচিত তাদের দাবি ঢালাওভাবে বিবেচনা না করা। এই খাতে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে হার্ডলাইনে যাওয়া উচিত। তা না হলে তারা শুধু চাইতেই থাকবে।’

পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনাকালীন সবচেয়ে বেশি প্রণোদনা পেয়েছে তৈরি পোশাক খাত। পোশাক খাতসহ রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি দিতে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করে। মোট তিন দফায় শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়। এরপর এপ্রিল মাসে সরকার একই খাতের চলতি মূলধনের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে। বিতরণের দিক থেকে এই প্রণোদনাগুলোই সবচেয়ে এগিয়ে।

রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার ঋণ পরিশোধে বেশ কিছু শর্ত দেওয়া ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণের পুরো অর্থ শোধ করতে তারা দুই বছর সময় পাবে। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ছয় মাস। এরপর দুই বছরে ১৮ কিস্তিতে ঋণের টাকা শোধ দিতে হবে। কিন্তু গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগেই তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল, স্থগিত, নির্দিষ্ট সময়ে পেমেন্ট না পাওয়া ইত্যাদি কারণে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিজিএমইএর অবস্থা তুলে ধরে গত বছরের শেষ দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় করোনা পরিস্থিতির কারণে সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতার জন্য দেওয়া ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করা এবং দুই বছরের ১৮ কিস্তির মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের পরিবর্তে পাঁচ বছরে ৬০টি কিস্তির সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় গ্রেস পিরিয়ডের সময় ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করেছে। অর্থাৎ এক বছরে ঋণের কোনো কিস্তি পোশাক মালিকদের দিতে হবে না। গ্রেস পিরিয়ড বাড়ার কারণে ঋণ পরিশোধেও বাড়তি ছয় মাস পাচ্ছেন পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। ঋণ পরিশোধে এখন আড়াই বছর সময় পাবেন তাঁরা। তবে ১৮ কিস্তিতেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়নি মন্ত্রণালয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা