kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

করোনায়ও বড় অগ্রগতি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায়ও বড় অগ্রগতি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে

করোনার বছর ২০২০ সালে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। নতুন গ্রাহক বাড়ার সঙ্গে আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ কিংবা রেমিট্যান্সের অর্থ বিতরণ সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত এক বছরে গ্রাহক বেড়েছে প্রায় ৮৩ শতাংশ। আমানত বেড়েছে ১১২ শতাংশের বেশি। ঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩২৪ শতাংশ। আর রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ২১৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচলিত শাখা ব্যাংকিংয়ের চেয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং বেশ ব্যয়সাশ্রয়ী। শাখা না খুলে ব্যাংকের তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই সেবা দেওয়ার ব্যবস্থাটি দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। স্থানীয় হাট-বাজার বা ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রের এজেন্ট আউটলেটে মিলছে প্রায় সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা। ২৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১১ হাজার ৯২৫টি মাস্টার এজেন্টের আওতায় ১৫ হাজার ৯৭৭টি আউটলেটের মাধ্যমে এই সেবা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ৯৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৬৩ জন গ্রাহক হিসাব খুলেছেন। এসব হিসাবে আমানত স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রাহক ছিল ৫২ লাখ ছয় হাজার ৪৯৬ জন এবং আমানত স্থিতি ছিল সাত হাজার ৫১৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাত্ তিন মাসে গ্রাহক বেড়েছে ৪৩ লাখ ৭৪ হাজার ৬৬৭ জন বা ৮৩.০৩ শতাংশ এবং আমানত স্থিতি বেড়েছে প্রায় আট হাজার ৪৬০ কোটি টাকা বা ১১২.৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে গত এক বছরের ব্যবধানে নতুন এজেন্ট বেড়েছে প্রায় ৫১.৭৯ শতাংশ। আর আউটলেট বেড়েছে ৪১.১৪ শতাংশ।

ঋণ বিতরণের মাধ্যমে আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এজেন্ট ব্যাংকিং। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ঋণ বিতরণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৮৯৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে যা ছিল মাত্র ৪৪৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে গত এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে এক হাজার ৪৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ৩২৪.৪৭ শতাংশ।

অন্যদিকে এজেন্ট ব্যাংকিং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বিতরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা রেমিট্যান্স বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে যা ছিল ১৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এ হিসাবে গত এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বিতরণ বেড়েছে ৩৩ হাজার ২৭২ কোটি টাকা বা ২১৪.১৮ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয় ২০১৪ সালে। এর আগে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা