kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন

চলতি অর্থবছরের সাত মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২৮.৪৫ শতাংশ, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছে ৬১ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৩৯ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২০ হাজার ১২ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে এক হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। গত শনিবার এসংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

এ প্রসঙ্গে আইএমইডির সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, এখন আর কভিডের প্রভাব বলার সুযোগ নেই। সব কিছুই স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কারণে জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। আমি এরই মধ্যে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের কিছু পূর্ত কাজের অগ্রগতি হবে। তাই আশা করছি, আগামী মাস থেকে এডিপির বাস্তবায়ন ভালো হবে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল ৩২.০৭ শতাংশ। এ সময় ব্যয় হয়েছিল ৬৮ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল ৩৪.৪৩ শতাংশ, ব্যয় হয়েছিল ৬২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৩.৩৫ শতাংশ, ব্যয় হয়েছিল ৫৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপির বাস্তবায়ন হয়েছিল ৩২.৪১ শতাংশ। ওই ব্যয় হয়েছিল ৩৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে দুই লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৯ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে। তবে কভিড-১৯-এর কারণে এরই মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা অংশের বরাদ্দ কাটছাঁটের সুপারিশ করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এখন সংশোধিত এডিপি তৈরির কাজ করছে পরিকল্পনা কমিশন।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডিপি বাস্তবায়নে এগিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—ধর্ম মন্ত্রণালয় ৭৪.০২ শতাংশ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ৬৪.৭৮ শতাংশ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ৪৬.৯৬ শতাংশ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ৪৬.৯২ শতাংশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ৪২.৯০ শতাংশ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৪২.৬১ শতাংশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৩৮.১০ শতাংশ এবং বিদ্যুত্ বিভাগ ৩৭.৩৮ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। এদিকে এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ১.৮০ শতাংশ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৭.৯৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ৯.৭৫ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে।



সাতদিনের সেরা