kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

রপ্তানি সম্ভাবনা দেখাচ্ছে হালকা প্রকৌশল শিল্প

এম সায়েম টিপু   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রপ্তানি সম্ভাবনা দেখাচ্ছে হালকা প্রকৌশল শিল্প

কভিড-১৯-এর প্রভাবে বিশ্ববাজার বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি নেতিবাচক হলেও দেশের হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে গত সাত মাসে (২০২০-২১ অর্থবছর) আয় হয়েছে ৩০ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ কোটি ৭২ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে এই সময়ে আয় হয় ১৯ কোটি ৪৮ লাখ ডলার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শিল্পের প্রাণ হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিশ্বব্যাপী বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও পুঁজি, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, পরিকল্পিত শিল্প পার্ক ও নীতি সহায়তার অভাবে বিশ্ববাজারে ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাঁরা বলেন, সাত ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্ববাজারে আমাদের অংশগ্রহণ ১ শতাংশেরও কম। তবে স্থানীয়ভাবে এখানে বিনিয়োগ হয়েছে এক হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এর অবদান প্রায় ৩ শতাংশ।

গত পাঁচ বছরের রপ্তানি আয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও সমন্বিত পরিকল্পনা না থাকায় ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয় বাড়লেও ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে কমতে থাকে। তবে সরকারের নীতি সহায়তা এবং ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী হালকা প্রকৌশল শিল্পকে বর্ষপণ্য ঘোষণার পর ২০২০-২১ অর্থবছরের গত সাত মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬০ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ খাতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয় ছিল ৫১ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ৬৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা নেমে দাঁড়ায় ৩২ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা আরো কমে হয় ৩১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ আয় হয় ২৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার।

এর কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইশিমাস) সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এর কারণ আমাদের নীতি। আমরা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাচ্ছি। আগে অনেক ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমাদের কারখানাগুলোয় তৈরি হতো। বর্তমানে কর-ভ্যাট আরোপের ফলে কারখানাগুলো মূলধনি যন্ত্র তৈরিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন মেশিন আমদানি বাড়ছে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বেকার সমস্যাও বাড়ছে।’

বাইশিমাস সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী দেশ ভারত, আফ্রিকা, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মোটর পার্টস, ক্যামেরা, মোবাইলের খুচরা যন্ত্রাংশ, জাহাজের শিকল, কৃষি পণ্য ও নির্মাণ খাতের পণ্য। বর্তমানে এসব পণ্য রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তাও দেওয়া হয়। এ ছাড়া দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

যশোরের রিপন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পণ্য ও শ্রমের দাম কম হওয়ায় বিশ্ববাজারে এর বিপুল চাহিদা আছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা গেলে বিশ্ববাজারে আরো কদর বাড়বে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অটোমোবাইল এবং মোটরসাইকেল খাতে প্রসার বাড়ছে। এতেও বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ তবে এ জন্য সরকারিভাবে গুচ্ছগ্রাম এবং বেসরকারি খাতকে আরো এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জাতীয় সংগঠন নাসিবের চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গণী শোভন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে যে পরিমাণ হালকা প্রকৌশল পণ্যের চাহিদা আছে এর খুব কমই স্থানীয় উদ্যোক্তারা তৈরি করেন। এর বেশির ভাগই আমদানিনির্ভর। আমদানি বিকল্প পণ্য হিসেবে হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা আছে। তাই সরকারের নীতি সহায়তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। এ জন্য আলাদা গুরুত্ব দিয়ে ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা করা যেতে পারে। যেখানে থাকবে অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স, অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন, অ্যাকসেস টু মার্কেট এবং প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে তরুণসমাজকে আরো সনচেতন করতে হবে এ খাতে আসার জন্য। স্কিল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে আমরা তাদের কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও তাদের তৈরি করা যেতে পারে।’



সাতদিনের সেরা