kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

► বিশেষজ্ঞ মত
► জোর দিতে হবে কম্পানির সুশাসন প্রতিষ্ঠায়

স্বতন্ত্র ও শেয়ারহোল্ডার পরিচালককে বিনিয়োগকারীর স্বার্থ দেখতে হবে

মোঃ রকিবুর রহমান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

২৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বতন্ত্র ও শেয়ারহোল্ডার পরিচালককে বিনিয়োগকারীর স্বার্থ দেখতে হবে

যেসব তালিকাভুক্ত কম্পানির স্পন্সর/ডিরেক্টর কম্পানির উন্নতির দিকে নজর না দিয়ে, ম্যানেজমেন্টকে শক্তিশালী না করে, হাজার হাজার বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারের স্বার্থ না দেখে শুধু নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য যখন শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন ২ শতাংশ, ৩০ শতাংশ শেয়ার হোল্ড করার বাধ্যবাধকতা না মেনে উচ্চদামে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন; বাজারের সুযোগ নিয়ে যারা শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখেছে, সেই সব তালিকাভুক্ত কম্পানি যেগুলো এখন জেড গ্রুপে আছে, শেয়ারের দাম ১০ টাকার নিচে, লাখো বিনিয়োগকারী তাদের প্রতারণার জালে আবদ্ধ হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে, সেসব তালিকাভুক্ত কম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাকে আমি সাধুবাদ জানাই।

এটি একটি বাস্তব ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এটা সঠিকভাবে কার্যকর করা গেলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। হাজারো বিনিয়োগকারী উপকৃত হবে। এটা সব তালিকাভুক্ত কম্পানি এবং তথাকথিত স্পন্সর/ডিরেক্টরদের একটি বার্তা দেবে—এখন থেকে যে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারবে না। সবাইকে পুঁজিবাজারে ১০০ শতাংশ কমপ্লায়েন্স মেনে চলতে হবে। যে যতই শক্তিশালী হোক, পুঁজিবাজারে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে লাভ নেই। তালিকাভুক্ত কম্পানিতে সবাই শেয়ারহোল্ডার, কেউ মালিক নন।

এখানে মালিকানা বলতে কিছু নেই। কেউ বড় শেয়ারহোল্ডার, কেউ ছোট শেয়ারহোল্ডার—সবাই সমান। বিএসইসির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ ১০০ শতাংশ সুরক্ষা করা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে বিএসইসি এই কাজ দৃঢ়ভাবে করে যাচ্ছে। বিভিন্ন শেয়ারে আমরা তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি, সেই সঙ্গে পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরে আসছে।

শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাকে আমি সাধুবাদ জানাই

যেসব তালিকাভুক্ত কম্পানির স্পন্সর/ডিরেক্টর কম্পানির পারফরম্যান্সের দিকে নজর না দিয়ে, বিগত বছরগুলোতে ২ শতাংশ, ৩০ শতাংশ হারে শেয়ার হোল্ড না করে, শুধু নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য কৃত্রিমভাবে ভুল তথ্য দিয়ে শেয়ারের দাম দিয়ে বৃদ্ধি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা করে বেশি দামে নিজেদের সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন, যাঁদের কম্পানির শেয়ারের দাম ১০ টাকার নিচে, তাঁদের বাধ্য করতে হবে শেয়ারবাজার থেকে অন্তত অভিহিত মূল্যে শেয়ার বাইব্যাক করার জন্য। যদি বাইব্যাক না করেন তাহলে তাঁদের ম্যানেজমেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। যদি কোনো বিনিয়োগকারী বাজার থেকে ২ শতাংশ শেয়ার ক্রয় করে থাকেন তাহলে অটোম্যাটিক্যালি তাঁকে পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করে কম্পানির ম্যানেজমেন্ট পরিচালনার সুযোগ করে দিতে হবে। যদি সেই রকম কোনো সুযোগ না থাকে তবে এসব ইন্ডাস্ট্রিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, যাঁর দায়িত্ব হবে কম্পানির সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে দক্ষ ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা করা।

এখানে যেন তথাকথিক স্পন্সর/ডিরেক্টরদের কোনো প্রভাব না থাকে। একটি বিষয় লক্ষ করা যাচ্ছে, তথাকথিত স্পন্সর/ডিরেক্টর, যাঁদের সম্মিলিত ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই, তাঁরা নিজেদের প্রভাব কম্পানিতে বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, যা একান্তই কাম্য নয়। তাঁরা বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রতারণা করছেন। এসব তালিতাভুক্ত কম্পানির এই তথাকথিত ডিরেক্টরদের ব্যাপারে বিএসইসিকে অত্যন্ত কঠোর হতে হবে। বোর্ড পুনর্গঠনের দায়িত্ব বিএসইসির, এ ব্যাপারে কারো কোনো প্রভাবই খাটবে না।

যাঁরা বাজার থেকে শেয়ার কিনে বোর্ডে আসবেন তাঁদের দায়িত্ব অনেক বেশি থাকবে। একমাত্র তাঁরাই পারবেন কম্পানিটিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে। আমি মনে করি, বিএসইসি কমিশন এই বোর্ড পুনর্গঠনে কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না, কারো দ্বারা প্রভাবিত হবে না, কারো কোনো আপত্তিও শুনবে না। বিএসইসি কমিশন সঠিক পথে আছে।

ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসিকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। ব্যাংকের টাকা যারা লুটপাট করেছে, পরিচালক হোক বা ম্যানেজমেন্টের লোক হোক, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। দেউলিয়া আইন সংশোধন করে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের লাইফস্টাইলে হাত দিতে হবে। এটাই টাকা আদায়ের বাস্তবসম্মত একমাত্র পথ।

দুদক বলেছে, এ বছরই ৬৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। হাইকোর্ট সব কিছু ধরা শুরু করেছেন। অর্থমন্ত্রী পার্লামেন্টে প্রায় তিন লাখ ইচ্ছাকৃত ঋণখোলাপি ও তাদের কম্পানির নাম প্রকাশ করেছেন। সবাই সোচ্চার হয়েছেন। আমরা ভালো কিছু প্রত্যাশা করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা