kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

ছয় মাসে বেনাপোল রেলপথে রাজস্ব আয় ২৬১ কোটি টাকা

জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর)   

২৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় মাসে বেনাপোল রেলপথে রাজস্ব আয় ২৬১ কোটি টাকা

ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্যবাহী পিকআপের সারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেলপথে চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে ২৬১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে সরকার। অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাবদ দুই কোটি ৮৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আয় করেছে। এই সময়ে রেলপথে পণ্য আমদানি হয়েছে ৮২২ কোটি টাকার, পণ্যের পরিমাণ দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৪.৩ টন। তবে চলতি অর্থবছরের শেষে এই পথে দ্বিগুণ পরিমাণ রাজস্ব ও ভাড়া আদায় হবে বলে জানান বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাহিদুজ্জামান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতের বনগাঁ পৌরসভার অধীনে কালীতলা আমদানীকৃত পণ্যবাহী ট্রাক দিনের পর দিন পার্কিংয়ে রেখে একটি সিন্ডিকেট নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল। ওই পার্কিং থেকে চুক্তির মাধ্যমে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া নিয়ে বেনাপোল বন্দরে ট্রাক পাঠাত সিন্ডিকেটের সদস্যরা, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কারণে বাংলাদেশি আমদানিকারক ও ভারতের রপ্তানিকারকরা হিমশিম খাচ্ছিল। এর ফলে প্রতিটি পণ্য চালানে অতিরিক্ত ভাড়ার প্রভাব পড়ছিল বাংলাদেশের বাজারেও। তা ছাড়া দুই দিন পর পর নানা ধর্মঘটের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। ওখান থেকে প্রতিদিন নিজেদের ইচ্ছামতো কবে কোন ট্রাক বাংলাদেশে যাবে তা তারাই নির্ধারণ করে দেয়ালে কাগজ সেঁটে দেয়। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে আমদানীকৃত পণ্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদুপরি, শিল্পের কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে না পারায় শিল্প কার্যক্রম ব্যাহত হয় মারাত্মকভাবে। ট্রাকচালকরাও এই প্রক্রিয়াতে লোকসানে পড়ে। এর মধ্যে দুই দেশের কাস্টমস, রেল মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা ২০২০ সালের ৪ জুন রেলপথে পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়। করোনার আগে বেনাপোল রেলপথে কেবল কার্গো রেলের মাধ্যমে ভারত থেকে সপ্তাহে একটি বা দুটি রেল আসত। কখনো দেখা গেছে, মাসে একটি রেলও আসছে না। কিন্তু বর্তমানের চিত্র ভিন্ন। বেনাপোল রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল স্থলবন্দর রেলপথে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৪.৩ টন, যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। গত বছরের (২০১৯-২০) অর্থবছরে এ পথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৩.৯ টন, যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে আট কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাহিদুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে স্থলপথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেলপথে পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে বন্দরের রেল ইয়ার্ড না থাকায় পণ্য রাখতে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আশা করি শিগগিরই এ সমস্যা সমাধান হবে।’

তিনি জানান, আগে এই পথে চাল, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, শুকনা ঝাল, পাথর ও ফ্লাই অ্যাশ আমদানি হতো—বর্তমানে বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য, দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টসের ডেনিম ফ্যাব্রিকস, পিকআপ, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়। এভাবে যদি রেলপথে পণ্য আমদানি অব্যাহত থাকে তাহলে এ বছর রেল খাতে সরকারের রাজস্ব দিগুণ আদায় হবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভারতীয় ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেট জিম্মি করে রেখেছে।



সাতদিনের সেরা