kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

অর্থনীতিতে চাহিদা কমায় বাড়েনি বেসরকারি ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থনীতিতে চাহিদা কমায় বাড়েনি বেসরকারি ঋণ

করোনা পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চাহিদা কমায় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাড়েনি। এ ছাড়া অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহকে নিরুৎসাহী করা এবং বিদ্যমান কু-ঋণের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ব্যাংকগুলোর সতর্কতামূলক ও সংযত নীতি বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি ও সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এমনই মন্তব্য করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল ব্যাংকার্স সভায় এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর ফজলে কবির।

সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক অক্টোবর ২০২০ অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২০ সালে ৪.৪ শতাংশ সংকুচিত হবে মর্মে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, যেখানে ২০১৯ সালে প্রকৃতপক্ষে তা ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। চলতি অর্থবছরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতিকে ৫.৪ শতাংশে সীমিত রেখে ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে প্রণীত মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

মুদ্রা ও ঋণ পরিস্থিতি : নভেম্বর ২০২০ শেষে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের প্রবৃদ্ধি (বছরভিত্তিক) দাঁড়িয়েছে ১৪.০২ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের (নভেম্বর ২০১৯) প্রবৃদ্ধির (১২.৭৩ শতাংশ) তুলনায় বেশি হলেও আগামী ২০২১ সালের জুনের জন্য প্রক্ষেপিত প্রবৃদ্ধির (১৫.৬ শতাংশ) মধ্যেই রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবাসী আয়ের জোরালো প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ধনাত্মক হওয়া এবং আমদানি ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় ব্যাংকব্যবস্থার নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধি জোরালো হয়েছে এবং এতে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের প্রবৃদ্ধির গতিধারা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-নভেম্বর সময়ে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ (নিট) গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৫ বিলিয়ন টাকা, যেখানে পুরো অর্থবছরের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৮৫০ বিলিয়ন টাকা। মূলত সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকারের ঋণগ্রহণের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণগ্রহণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই রয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালে নভেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮.২১ শতাংশ, চলতি অর্থবছরের পুরো সময়ের জন্য প্রক্ষেপিত ১৪.৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেকটা কম।

মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি : চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) গড় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে সাধারণ গড় ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ওই সময়ে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পণ্যদ্রব্য সরবরাহে ব্যয় বৃদ্ধি এবং পেঁয়াজ ও আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবর ২০২০ শেষে সাধারণ গড় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৭৭ শতাংশে দাঁড়ালেও ডিসেম্বর শেষে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৬৯ শতাংশ। আমন ধানের ভালো ফলন এবং সাম্প্রতিক সময়ে চাল আমদানিতে শুল্কহার হ্রাস করায় সামনের মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে সাধারণ গড় মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রার (৫.৪ শতাংশ) মধ্যেই সীমিত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

বৈদেশিক খাতের অবস্থা : অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ের ধীর প্রবৃদ্ধির (০.৯৩ শতাংশ) পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের জোরালো ৪১.১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে আমদানি ব্যয় ৮.৮১ শতাংশ পেয়েছে। এ কারণে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসেবে বড় উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪১০৯ মিলিয়ন ডলার। অথচ আগের বছরের একই সময়ে চলতি হিসাবে ১৪৪৭ মিলিয়ন ডলার ঘাটতি ছিল। এ সময়ে মূলধন স্থানান্তর, প্রত্যক্ষ নিট বৈদেশিক বিনিয়োগ, নিট পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ও নিট অন্যান্য বিনিয়োগ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম হলেও মূলধন ও আর্থিক হিসাবের সমন্বিত স্থিতি ১০০৮ মিলিয়ন ডলার ধনাত্মক হয়েছে। এতে লেনদেন ভারসাম্যের সার্বিক উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬৮ মিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ৩০৭ মিলিয়ন ডলার ঘাটতি ছিল।