kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

ব্যাংকার্স সভায় গভর্নরের হুঁশিয়ারি

স্বীকৃত বিলের দায় নিয়ে কোনো অভিযোগ সহ্য করা হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর ঋণ বিতরণ আগামী মার্চের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় ও বৈদেশিক অপরিশোধিত স্বীকৃত বিলগুলো দ্রুত পরিশোধে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, এখন থেকে স্বীকৃত বিলের মেয়াদ পূর্তি হলেই তা পরিশোধ করতে হবে। এটা নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ আর সহ্য করা হবে না। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে এবারের ব্যাংকার্স সভাও ভার্চুয়ালি আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর ফজলে কবির। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ছাড়াও দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা অংশ নেন।

জানা গেছে, সভায় করোনাভাইরাসের ক্ষতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক জড়িত সেসব প্যাকেজের ঋণ বিতরণের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় উপস্থাপিত এসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকার এ পর্যন্ত মোট এক লাখ ২০ হাজার ১৫৩ কোটি টাকার ২১টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা জিডিপির ৪.৩০ শতাংশ। এর মধ্যে ৯টি প্যাকেজের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি জড়িত। এর মধ্যে বড় ও সেবা শিল্প খাতের ৩৩ হাজার কোটি টাকা ও সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল অন্যতম। এর বাইরে কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতায় পাঁচ হাজার কোটি, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতে পাঁচ হাজার কোটি, নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের তিন হাজার কোটি, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলে ১২ হাজার ৭৫০ কোটি এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের এপ্রিল ও মে মাসের ঋণের বিপরীতে সুদ ভর্তুকি হিসেবে রয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বড় ও সেবা শিল্প খাতের ৩৩ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে নভেম্বর পর্যন্ত ২৯ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০.৭০ শতাংশ। দুই হাজার ৭৬৯ জন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান এই ঋণসুবিধা নিয়েছেন। অন্যদিকে সিএমএসএমই খাতে ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র সাত হাজার ৩১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৫ শতাংশ। ৪৫ হাজার ৯৯২ জন ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা নিয়েছে। যদিও এ সময় পর্যন্ত ৯ হাজার ৮২ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি খাত ও নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। সার্বিক দিক পর্যালোচনা শেষে গভর্নর ফজলে কবির আগামী মার্চের মধ্যে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা