kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

অর্থপাচার কমাতে এনবিআরের উদ্যোগ

বন্দরে বসবে আরো ১৩ স্ক্যানার

ফারজানা লাবনী   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্দরে বসবে আরো ১৩ স্ক্যানার

লোকবলের অভাবে অনেক সময় কনটেইনারে বা প্যাকেটে কী আছে, তা যাচাই না করেই পণ্য ছাড় করাতে বাধ্য হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আর এ সুযোগে অসৎ ব্যবসায়ীরা কম দামের পণ্য এনে কাগজে-কলমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকৃত হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্ক্যানার যন্ত্রের সাহায্যে যাচাই করে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা সম্ভব হলে অর্থপাচার কমবে এবং রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আ হ ম মুস্তফা কামালও মিথ্যা ঘোষণায় অর্থপাচার রোধে প্রতিটি বন্দরে স্ক্যানার বসানো হবে বলে জানিয়েছিলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিলেও এখনো এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত স্ক্যানার বসানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এনবিআরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্ক্যানার বসানোর প্রস্তুতি চলছে। আশা করি, দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ থাকায় অসৎ ব্যবসায়ীরা সহজে অর্থপাচারের মতো অপরাধ করছেন। স্ক্যানারের মতো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে পণ্য আনা-নেওয়া করা হলে এ সুযোগ কমে যাবে। এতে অর্থপাচার কমবে। দেশের অর্থ দেশে থাকবে। ফলে সমগ্র অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’  

প্রসঙ্গত, স্ক্যানার হচ্ছে এক ধরনের যন্ত্র, যার মধ্য দিয়ে কনটেইনারভর্তি বা প্যাকেটজাত পণ্য আনা-নেওয়ার সময় ভেতরে কী আছে, সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়। ম্যানুয়ালি খুলে দেখার প্রয়োজন হয় না। উন্নত দেশগুলো এ যন্ত্র ব্যবহার করে পণ্য ছাড় করে। 

অভিযোগ পাওয়া যায়, কিছু অসৎ ব্যবসায়ী কনটেইনারে বা প্যাকেটে কম দামি ও কম পরিমাণের পণ্য আনলেও কনটেইনারে বা প্যাকেটের সঙ্গে থাকা কাগজপত্রে বেশি দাম বা পরিমাণের মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। এভাবে মূল্য হিসেবে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি কনটেইনারে বা প্যাকেটে কী আছে, তা এনবিআরের পক্ষে লোকবলের অভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না।

আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনট্রেগ্রিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাণিজ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থপাচারে বাংলাদেশ শীর্ষ ৩০ দেশের মধ্যে আছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, বর্তমানে সারা দেশে ১১টি স্ক্যানার আছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আরো ১৪টি স্ক্যানার সংগ্রহের জন্য ৫০০ কোটি টাকা চেয়ে এনবিআর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৩টি স্ক্যানার কেনার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য খন্দকার আমিনুর রহমান বলেন, ‘এনবিআর থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন স্ক্যানার কেনার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ স্ক্যানার আছে, তা যথেষ্ট নয়। সব বন্দরে পর্যাপ্ত স্ক্যানার বসানো হলে পণ্য ছাড়করণে স্বচ্ছতা আসবে। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি কমে যাবে। রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ১৩টি স্ক্যানার কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে ছয়টি ও দ্বিতীয় ধাপে সাতটি কেনা হবে। ফেব্রুয়ারিতে টেন্ডার আহ্বান করা হতে পারে।’ দেশি-বিদেশি অনেক ব্যবসায়ী এবং সংস্থাও বন্দরে স্ক্যানার বসানোর দাবি জানিয়েছে। বিশেষভাবে ইউএস কোস্ট গার্ডের আন্তর্জাতিক জাহাজ এবং বন্দর সুবিধা সুরক্ষা (আইএসপিএস) মানদণ্ড অনুযায়ী স্ক্যান করে পণ্য ছাড় করানোর কথা বলা হয়েছিল।

এফবিসিসিআই সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসায়ী নামধারী অনেক অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। অর্থপাচারের মতো জঘন্য কাজ করছে। সব গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে স্ক্যানার বসিয়ে সব ধরনের পণ্য যাচাই করে ছাড় করানো হলে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি রপ্তানি বন্ধ হবে।’ এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্ক্যানার কেনার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তাহলে পণ্য খতিয়ে দেখে ছাড় করা সম্ভব হবে। এতে সবার জন্য ক্ষতিকর পণ্য দেশে আনার সুযোগ কমবে। আবার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ থাকবে না।’

মন্তব্য