kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

এডিপি বাস্তবায়ন ২৩.৮৯ শতাংশ

করোনায় বিদেশি সহায়তা বেড়েছে

তামজিদ হাসান তুরাগ   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় বিদেশি সহায়তা বেড়েছে

দেশের অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত করে করোনা মহামারি। গত অর্থবছরের ছয় মাসই করোনার আঘাতে সারা বিশ্বের মতো দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে আসে। এর মধ্যেও সরকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয় নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি বিদেশি সহায়তায়।

সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) জুলাই থেকে নভেম্বর পাঁচ মাসে বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থ ছাড় ছিল প্রতিশ্রুতির বেশি। এই অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল ১৪ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা দরে)। এতে ঋণ ছিল ১১ হাজার ৯৯৪ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অনুূূদান ছিল দুই হাজার ৫৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু অর্থ ছাড় হয়েছে ১৭ হাজার ৪১৮ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৮২৭ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অনুদান ছিল ৫৯০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। করোনা মহামারি আক্রান্ত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় তাদের এ সহায়তা।

অন্যদিকে গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল ২২ হাজার ৮৪ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঋণ ছিল ২০ হাজার ৪৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও অনুদান এক হাজার ৬৩০ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গত অর্থবছরে অর্থ ছাড় ছিল ১৩ হাজার ৮২৩ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক কম।

এডিপির বাস্তবায়ন ২৩.৮৯% : দেশে করোনা মহামারির প্রকোপ থাকা সত্ত্বেও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের (জুলাই থেকে ডিসেম্বরের) ছয় মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ২৩.৮৯ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৬.৫৯ শতাংশ। এডিপির এই বাস্তবায়ন গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আর গত অর্থবছরের তুলনায় এডিপি বাস্তবায়ন কমেছে ২.৭ শতাংশ। পকিল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছে ৫১ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল হতে ৩২ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ২৪.০২ শতাংশ। বৈদেশিক সহায়তা হতে ১৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৪.৯১ শতাংশ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন হতে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৪.৩৫ শতাংশ।

আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে (প্রথম ছয় মাস) এডিপির বাস্তবায়ন হয়েছিল ২৭.৪৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাস্তবায়িত হয়েছিল ২৭.০২ শতাংশ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭.২০ শতাংশ। আইএমইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের অনেকটা সময় কভিড-১৯-এর কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঠিকমতো করা যায়নি। ফলে বাস্তবায়ন কিছুটা কম হয়েছে।

আইএমইড বলেছে, শুধু ডিসেম্বর মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৫.৯৬ শতাংশ। এ সময় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছে ১২ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ছয় হাজার ৬০৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা পাঁচ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩০৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এদিকে গত অর্থবছরের ডিসেম্বরে, অর্থাৎ এক মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৭.৩৫ শতাংশ। ওই সময় ব্যয় হয়েছিল ১৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে দুই লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা এডিপি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর মধ্যে  সরকারি তহবিলের এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা বা ৬২.৭৪ শতাংশ এবং বিদেশি সহায়তা ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা বা ৩২.৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ৯ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা বা ৪.৪১ শতাংশ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলে গত অর্থবছরের তুলনায় এডিপি বাস্তবায়ন খুব কম যে হয়েছে, এমনটা নয়। আমাদের কিন্তু সর্বোচ্চ এডিপি বাস্তবায়ন ৭০ শতাংশের ওপরেও আছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা