kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

ভোজ্য তেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী

বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমাতে হবে

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণে ট্যারিফ কমিশনের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে।----- বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমাতে হবে

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, পণ্যের হাত বদলের কারণে যেন বাজারে প্রভাব না পড়ে। বিশেষ করে, খোলা তেলের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভোজ্য তেল ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। জুলাই মাসে প্রতি টন ৭০০ ডলার ছিল, সেটা এখন এক হাজার ১৫০ ডলারের ওপরে উঠেছে। মাঝখানে এক হাজার ১৯০ ডলারে উঠেছিল। তার মানে ৭৫ শতাংশের ওপর দাম বেড়েছে। বিশ্ববাজারে এই দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে দাম কেমন হতে পারে, বৈঠকে সে বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণে ট্যারিফ কমিশনের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাজারে কী দামে তেল বিক্রি হবে শিগগিরিই ওই কমিটি একটি প্রতিবেদন দেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, ভোজ্য তেলে ডিউটি চার স্থানের পরিবর্তে এক স্থানে আনার প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাবি তোলা হয়েছে ভোজ্য তেলে তিন বা চার স্তরে যে ডিউটি, ভ্যাট, ট্যাক্স নেওয়া হয় সেটা সরকারের রাজস্ব না কমিয়ে এক জায়গা থেকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা। এতে ব্যবসায়ীদের সময় বাঁচবে, হয়রানিও কমবে।’

বৈঠকে ফলাফল কী হলো জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, রেজাল্টটা হলো এই যে আমরা শিগগিরই ট্যারিফ কমিশন, ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই পথ বের করব যে কী দাম থাকলে সেটা যৌক্তিক হয়। আজকে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য এক  হাজার ২০০ ডলার ধরে আমরা ঠিক করে দিলাম যে এই দামে তেল বিক্রি হবে। কিন্তু কালকে আবার এক হাজার ২০০ ডলার ৭০০-তে নেমে এলো। আবার  দেশজুড়ে শুরু হয়ে যাবে কথাবার্তা। তাই কথাটা হচ্ছে, কোনো দাম ঠিক করাটা খুব কঠিন। কারণ আমদানিনির্ভর পণ্য। তবে একটা উপায় বের করতে হবে। আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্য বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে চাহিদার তিন গুণ আমদানি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে খেজুর, চিনি, ছোলা, তেল ও ডাল। এ ছাড়া উৎপাদক এবং ভোক্তা পর্যায়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কঠোর মনিটর করবে।

এ সময় বাণিজ্যসচিব ড. জাফর উদ্দিন, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড টেরিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. ওবায়দুল আজম, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রি. জে. মো. আরিফুল হাসান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তারা এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা