kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ৩২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

অতিমারি করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী স্থবিরতার মধ্যেও উজ্জ্বল ব্যতিক্রম চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ২০২০ সালের করোনাকালীন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে ৩৯৮ কোটি ইউএস ডলার। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরেই বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে দেশি-বিদেশি ৩৭১ কোটি ডলার বা সাড়ে ৩১ হাজার কোটি টাকা।

বেজা সূত্র জানায়, বেজা গভর্নিং বোর্ড এরই মধ্যে ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান নির্ধারণ ও জমির পরিমাণ অনুমোদন করেছে, এর মধ্যে সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ৬৮টি এবং বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ২৯টি। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে দুটি, জিটুজি অর্থনৈতিক অঞ্চল চারটি এবং ট্যুরিজম পার্ক রয়েছে তিনটি। ইতিমধ্যে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর, মহেশখালী, শ্রীহট্ট, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক) ১৭২টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সর্বমোট সাত হাজার ৩১৫ একর জমি ইজারা প্রদান করা হয়েছে, যার প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া প্রায় ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে। এর ফলে সর্বমোট বিনিয়োগের প্রস্তাবের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ লোকের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তবে করোনাকালীনও বেজার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা ছিল উল্লেখ করার মতো। বেজার হিসাবে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১৫ ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান বেজার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ৯৪টি, সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে ১২টি এবং জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৯টি বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এই বিনিয়োগকারীরা সম্মিলিতভাবে এক হাজার ৩০৭ একর ভূমির জন্য মোট ৩৯৮ কোটি ২২ লাখ ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব করেছে। এই বিনিয়োগ প্রস্তাবে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৭৫১ জন বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রস্তাবনার মধ্যে অনেকগুলো এরই মধ্যে বেজার অনুমোদনও পেয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে অনুমিতভাবেই রয়েছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই বাণিজ্যনগরে ৯৪ বিনিয়োগকারী এক হাজার ১২০ একর জমির জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩৩০ কোটি ডলার এবং বিদেশিদের কাছ থেকে এসেছে ৪০ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।

গত বছর বেজায় উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশগুলো থেকে আসা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাজ্যের বার্জার পেইন্টস, চীনের জিয়ানগসু ইয়াবাং ডাইস্টাফ কম্পানি, জেইহং মেডিক্যাল প্রডাক্টস, সিসিইসিসি বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার হাইটেক, ভারতের রামকি এনভিরো সার্ভিসেস, জার্মানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে ভারতের ফরটিস গ্রুপ, নেদারল্যান্ডসের লিজার্ড স্পোর্টস, সিঙ্গাপুরের ইন্টার-এশিয়া গ্রুপ, দেশীয় প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মেট্রো স্পিনিং, ম্যাফ সুজ, সায়মন বিচ রিসোর্ট, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন, এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইফাদ অটোস, রানার মোটরস লিমিটেড, সাইফ পাওয়ারটেক, ডেল্টা ফার্মা লিমিটেড ও এশিয়া কম্পোজিট মিলস লিমিটেড।

জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘করোনাকালীন বিনিয়োগের এ সুবাতাস প্রমাণ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। বর্তমান সরকারের স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের আদর্শ স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর বিনিয়োগের এ প্রবাহ চলমান থাকলে আগামী বছর বিনিয়োগকারীদের শিল্পে ব্যবহারে জমি দেওয়া আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’ তিনি বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরকে আগামীর বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা