kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বাড়ল ৪%

গত নভেম্বরে নতুন গ্রাহক বেড়েছে ১.৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বাড়ল ৪%

দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মুহূর্তে টাকা পাঠানো; গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধ; কেনাকাটা, বেতন-ভাতা প্রদান কিংবা বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো—সবই করা যাচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। এ রকম বহুমুখী সুবিধার কারণে মানুষেরও আগ্রহ বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে গ্রাহক ও লেনদেনের পরিমাণ। সর্বশেষ গত নভেম্বর মাসে এ সেবায় গ্রাহকসংখ্যা দেড় শতাংশ ও দৈনিক লেনদেন প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বর্তমানে মোট ১৫টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের নিবন্ধিত এজেন্টের সংখ্যা এখন ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৫২১ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের নভেম্বর শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৭৮ লাখ ৩৭ হাজার, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার। অর্থাৎ এক মাসে নতুন গ্রাহক বেড়েছে ১.৫ শতাংশ। তবে মোট গ্রাহকের বড় অংশই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। নভেম্বর শেষে এর পরিমাপ দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ৬১ লাখ ৬৩ হাজার। অন্যদিকে এ সময় পর্যন্ত সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ১৬ লাখ ৭৪ হাজার। এক মাস আগে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা ছিল তিন কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার। অর্থাৎ এক মাসে সক্রিয় হিসাব কমেছে ৪.৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোনো হিসাব থেকে টানা তিন মাস লেনদেন না হলে তা নিষ্ক্রিয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত নভেম্বরে মোট ৫৩ হাজার ৫৯৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা অক্টোবরে ছিল ৫৩ হাজার ২৫৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে মোট লেনদেন বেড়েছে ০.৬০ শতাংশ। অন্যদিকে এ মাসে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৭৮৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা আগের মাসে ছিল এক হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে নভেম্বরে দৈনিক লেনদেন বেড়েছে ৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, এ মাসে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে জমা পড়েছে ১৬ হাজার ৩৫২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যা আগের মাসের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি। এ মাসে উত্তোলন হয়েছে ১৪ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা, যা আগের মাসে ছিল ১৪ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। এ মাসে সুবিধাভোগীদের কাছে রেমিট্যান্স প্রেরণ ১.৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা আগের মাসে ছিল ১১৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। নভেম্বরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ সাড়ে ৫ শতাশ বেড়েছে। এ মাসে বেতন-ভাতা পরিশোধ হয়েছে দুই হাজার ২৩ কোটি ৪৩ টাকা, যা আগের মাসে ছিল এক হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। এ সময়ে কেনাকাটার বিল পরিশোধ ৭.৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা, যা আগের মাসে ছিল এক হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।

তবে নভেম্বরে ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, ইউটিলিটি বিল ও সরকারি পরিশোধ কমে গেছে। নভেম্বরে ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর ২.৮ শতাংশ কমে হয়েছে ১৬ হাজার ১০৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এ মাসে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৮৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা