kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

দেড় টাকা রোজে কাজ করা লোকমান এখন শিল্পপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেড় টাকা রোজে কাজ করা লোকমান এখন শিল্পপতি

শিল্পপতি লোকমান হোসেন

মাত্র দেড় টাকা রোজে কিশোর লোকমানকে সিসা গলানোর কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলেন পুরান ঢাকার লালবাগ থানা এলাকার নবাবগঞ্জের সিসা ও কয়লা ব্যবসায়ী আওলাদ মহাজন। সিসা গলানোর মাধ্যমেই কিশোর লোকমান আস্তে আস্তে সিসা বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। লোকমানের এই গুণাবলিতে মুগ্ধ হয়ে আওলাদ মহাজন তাঁকে ব্যবসার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন বিশ্বস্ততার সঙ্গে। এরপর সেই লোকমান সাড়ে তিন হাজার টাকা জমিয়ে সিসা আর কয়লার ব্যবসা শুরু করেন। পরিশ্রমী আর আত্মবিশ্বাসী লোকমান অতি অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন একজন ব্যবসায়ী বা মহাজন। সিসা, কয়লা সেই সঙ্গে উড়োজাহাজ, স্ক্রাব ও পুরনো লোহা-সিসা কেনাবেচার নিলাম, টেন্ডারসহ নানা ব্যবসায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন তিনি। লোকমানের সিসা চেনার আশ্চর্য গুণের কারণে তিনি হয়ে ওঠেন সিসা জগতের সম্রাট। সিসার গুণগত মান পরীক্ষায় কোনো ল্যাব বা গবেষণাগারের প্রয়োজন নেই। লোকমান হোসেন দাঁতে কামড় দিয়েই সিসার মান বলে দিতে পারতেন। কারণ তখনো সিসার গুণগত মান পরীক্ষায় স্পেকট্রোমিটার আবিষ্কারই হয়নি। আসল সিসা বা সিসায় কী পরিমাণ অন্য ধাতুর মিশ্রণ আছে তা দাঁতে কামড় দিয়ে বলে দিতেন লোকমান হোসেন। সিসার গুণাগুণ চেনার এই আশ্চর্যজনক দক্ষতার কারণে লোকমান হোসেন ১৯৮০ সালে কামরাঙ্গীর চরে প্রতিষ্ঠা করেন ব্যাটারি ফ্যাক্টরি। পান্না ব্যাটারি থেকেই আস্তে আস্তে আজ পান্না গ্রুপ। আওলাদ মহাজনের সেই কিশোর লোকমান আজ দেশ-বিদেশের একজন শীর্ষ ব্যাটারি রপ্তানিকারক ও শিল্পপতি। মাত্র দেড় টাকা রোজে কাজ করা সেই লোকমানের কারখানায় আজ লাখ লাখ টাকা বেতনে দেশি-বিদেশি শত শত লোক কাজ করছেন। লোকমান মহাজন আজ একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি।

দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারি কারখানাগুলো যখন একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল তখন পান্না গ্রুপের ব্যাটারি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের ৭০টি দেশে রপ্তানি করে চলছে। সম্প্রতিই শেষ হলো পান্না গ্রুপের আটটি বিভাগীয় ব্যাটারি পরিবেশকদের সম্মেলন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে উঠে আসে ব্যাটারিশিল্পের নানা সমস্যার কথা। দেশের ব্যাটারিশিল্পের সফল ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন জানালেন, এ মাসে তাঁরা আটটি বিভাগের সম্মেলন শেষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মূলত চায়নিজরাই আমাদের ব্যাটারিশিল্প ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠেছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ট্যুরিস্ট ভিসায় চায়নিজদের এনে তাদের মাধ্যমে নিম্নমানের নকল ব্যাটারি তৈরি করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে পাশাপাশি এই চায়নিজরা অবৈধভাবে দেশ থেকে মুদ্রাও পাচার করছে।’

লোকমান আরো বলেন, ‘আমরা জার্মান প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের একমাত্র পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করি। শত শত মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে আমাদের ফ্যাক্টরিতে। করোনাকালেও আমরা ফ্যাক্টরি বন্ধ করিনি। যে শ্রমিকদের ঘামে বিদেশে ব্যাটারি যায় তাদের পরিবারগুলোর প্রতি লক্ষ রেখেই আমরা তাদের বেতন-ভাতা অব্যাহত রেখেছি।’ তিনি বলেন, আজ ব্যাটারিশিল্পের নেই কোনো নির্দিষ্ট শিল্প এলাকা বা ইপিজেড। তিনি বলেন, ‘কামরাঙ্গীর চরে থাকা আমাদের ফ্যাক্টরির প্লটগুলো জরুরি ভিত্তিতে শিল্প প্লট হিসেবে ঘোষণা করে আমাদের ব্যাবসায়িক সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।’

ব্যাটারি ছাড়াও ফরিদপুরের মধুখালীতে রয়েছে লোকমানের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আলতুখান জুট ও স্পিনিং মিল। আগামীতে তিনি নিজ গ্রামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে যেতে চান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা