kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

মালয়েশিয়া-মাতারবাড়ী-চট্টগ্রাম বন্দর

পণ্য পরিবহনে নতুন রুট

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর এখনো নির্মাণ শুরু হয়নি; সেটি চালু হবে ২০২৫ সালে। কিন্তু এর আগেই সমুদ্রবন্দর এলাকার পাশে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটিতে পণ্যভর্তি জাহাজ আসা শুরু হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর প্রথম জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’ নির্মাণসামগ্রী নিয়ে সেই জেটিতে ভিড়েছিল। এরপর গত ৬ জানুয়ারি সেই জেটিতে ভিড়েছে দ্বিতীয় পণ্যবাহী জাহাজ এসপিএম ব্যাংকক। এই জাহাজটি দেশের সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে নতুন একটি রুটের সূচনা করেছে।

সেটি হচ্ছে মালয়েশিয়ার ‘পোর্ট কেলাঙ’ বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটি মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে ভিড়েছে। সেখানে অর্ধেক পণ্য নামিয়ে ১৩ জানুয়ারি বাকি পণ্য নিয়ে জাহাজটি গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। এসপিএম ব্যাংকক জাহাজটি এই রুটের কোনো নিয়মিত পণ্যবাহী সার্ভিস নয়, জাহাজটি শুধু কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণসামগ্রী নিয়ে এসেছে। তবে এর মধ্য দিয়ে পোর্ট কেলাঙ-মাতারবাড়ী-চট্টগ্রাম বন্দর রুটে পণ্য পরিবহনের রেকর্ড গড়ল জাহাজটি; একই সঙ্গে এই রুটে পণ্য পরিবহনের নতুন দুয়ার খুলল।

জাহাজটির শিপিং এজেন্ট এনশিয়েন্ট স্টিম শিপিংয়ের পরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ মোরশেদ হারুন বলেন, ‘এটা অবশ্যই বিদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের নতুন একটি সম্ভাবনার দুয়াল খুলল। আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হওয়ার আগেই আমরা এমন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘মূলত জাহাজটি আসছিল জাপান থেকে বেসরকারি কিছু আমদানিকারকের পণ্য নিয়ে। আসার পথে পোর্ট কেলাঙ বন্দর হয়ে চট্টগ্রাম আসছিল। কিন্তু জাপানি সরবরাহকারী দেখল যে জাহাজটি একই রুটে যাচ্ছে; তাই মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কিছু নির্মাণসামগ্রী পাঠাল ওই জাহাজে।’

মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে পণ্য ওঠানামার কাজ করছে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর গ্রিন এন্টারপ্রাইজ। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি দুটি জাহাজ থেকে পণ্য নামিয়েছে সেই জেটিতে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক এ কে এম সামশুজ্জামান রাসেল বলেন, জাহাজটিতে ছয় আমদানিকারকের পণ্য ছিল। পোর্ট কেলাঙ বন্দর থেকে আনা পণ্য নামানো হয়েছে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩০০ টন নির্মাণসামগ্রী ছিল। পণ্য নামিয়ে ১৩ জানুয়ারি জাহাজটি মাতারবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছয়। অনুমতি নিয়ে ১৫ জানুয়ারি জাহাজটি বন্দরের জিসিবি জেটিতে ভিড়বে। চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে বাকি আমদানিকারকের পণ্য নামিয়ে সেই জাহাজটি ফিরে যাবে।

শিপিংসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হবে ২০২৫ সালে। বন্দর চালুর আগ পর্যন্ত সমুদ্রবন্দর এলাকার পাশে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটিতে পণ্যভর্তি জাহাজ ভিড়লেও বাণিজ্যিক পণ্য নামানোর সুযোগ নেই। তবে একই জাহাজে যেকোনো আমদানিকারকের পণ্য সেখানে না নামিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা মোংলা বন্দরে নেওয়ার সুযোগ আছে।

জেএসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিমুল মজুমদার বলেন, একজন যেহেতু প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু করেছে নিশ্চয়ই অন্য শিপিং লাইনগুলোও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে। সরাসরি মাতারবাড়ী না এসেও যেকোনো বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পৌঁছে পণ্য নামিয়ে ফিরতি পথে মাতারবাড়ীতে গিয়ে বাকি পণ্য নামিয়ে চলে যেতে পারবে।

মন্তব্য