kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

এলপিজির দাম নির্ধারণে গণশুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এলপিজির দাম নির্ধারণে গণশুনানি

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণে গণশুনানি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিয়াম ফাউন্ডেশনের শহীদ এ কে এম শামসুল হক খান মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠিত হয় এই শুনানি। বিইআরসির চেয়ারম্যান ও সদস্যরা শুনানি পরিচালনা করেন।

সরকারি কম্পানি তাদের সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল; কিন্তু কারিগরি কমিটি তাদের সিলিন্ডারের দাম আরো ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৯০২ টাকা করার সুপারিশ করে। অন্যদিকে বেসরকারি কম্পানিগুলোর সিলিন্ডারের বর্তমান দাম এক হাজার ২৫৯ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৬৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিত প্রস্তাবে বর্তমানে প্রতি কেজি ১০৪ টাকা ৯৩ পয়সা হিসাবে বিক্রি হচ্ছে বলে উল্লেখ করে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মূল্যায়ন কমিটি এই মূল্য ৭২ টাকা ২৪ পয়সা সুপারিশ করে। এ ছাড়া ৩৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার ৫২৫ টাকা, ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম তিন হাজার ২৪৬ টাকা করার প্রস্তাব করে কারিগরি কমিটি।

কমিটির ভাষ্য, সৌদি আরামকো কম্পানির সিপি প্রতি টন ৫৩৮ ডলার বিবেচনায় নিলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ৯৫৪ টাকা, আর বর্তমান ৩৫৬ ডলার বিবেচনায় নিলে দাম দাঁড়ায় ৭৫৮ টাকা।

সরকারি কম্পানিসহ বর্তমানে দেশে এলপিজি আমদানি, মজুদ, বিতরণের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে ২৯টি প্রতিষ্ঠান। বার্ষিক এলপিজি ব্যবহারের পরিমাণ এক মিলিয়ন টন, যার ৯৮ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। ২০২৫ সালের মধ্যে ১.৮ মিলিয়ন টন, ২০৩০ সালে ২.৫ মিলিয়ন টনে উন্নীত হতে পারে বলে মনে করে বিইআরসি। ৩৮ লাখ গ্রাহকের জন্য তিন হাজার পরিবেশক ও ৩৮ হাজার খুচরা বিক্রেতা রয়েছে। এলপিজির দাম নির্ধারণের এই উদ্যোগে এখনই মাসে মাসে দাম নির্ধারণের নিয়ম চালু করার প্রয়োজন আছে কি না, তা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।

লাইসেন্সধারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওমেরা গ্যাসের সিইও শামসুল হক আহমেদ, বসুন্ধরা এলপিজির হেড অব ডিভিশন (সেলস) জাকারিয়া জালাল ও বেক্সিমকো এলপিজির সিএফও মুনতাসির আলম এই শুনানিতে অংশ নেন। বসুন্ধরা এলপিজির হেড অব ডিভিশন (সেলস) প্রকৌশলী জাকারিয়া জালাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গণশুনানিকে আমরা স্বাগতম জানাচ্ছি। আমরা চাই যে একটি ন্যায়সংগত ও ইনক্লুসিভ প্রাইস হোক। যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কাস্টমারের স্বার্থ এবং দেশের কল্যাণের সব কথা বিবেচনা করে বিইআরসি কমিশন একটি নির্দেশনা আমাদের দেবে। সেটা আমরা মেনে চলব। তবে বিইআরসি থেকে যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে সেটাতে আমাদের কয়েকটা পয়েন্টে ডিফরমেড আছে, সে পয়েন্টগুলোকে যদি বিবেচনা করা হয় তাহলে আমরা একটি যৌক্তিক এবং সম্মিলিতভাবে একটি পর্যায়ে যেতে পারব। এলপিজির দাম নিয়ে মানুষের মাঝে যে একটি বিরূপ মন্তব্য আছে, সবাই মনে করে যে এটার দাম গোপন করে কম-বেশি করা হয়। গণশুনানির মাঝে এ ব্যাপারগুলো অনেকটা পরিষ্কার হয়েছে। আমরা যারা এ খাতে বিনিয়োগ করেছি, তারাও চাই একটা ট্রান্সফারেন্সি থাকুক এবং এ কারণে মানুষের মাঝে একটি যৌক্তিক আবেদন চলে যাক, আমারও এটা চাই।’

মন্তব্য