kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করবে সরকার’

প্রণোদনার ৯০% অর্থ ছাড় ডিসেম্বরে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রণোদনার ৯০% অর্থ ছাড় ডিসেম্বরে

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল আয়োজিত মতবিনিময়সভায় বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনার প্রথম ধাক্কা সামলানোর অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে জীবন এবং জীবিকা বাঁচাতে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে সরকারের বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মসৃজন ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন বিষয়ে মতবিনিময়সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এখনো করোনার দ্বিতীয় ধাপ অত শক্তভাবে শুরু হয়নি। মৃত্যু কম। এই ভাইরাস মোকাবেলায় প্রথম ধাপের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলা করা হবে। কারণ, জনসংখ্যা ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় করোনা মোকাবেলায় প্রথমে ও পরে উত্তরণ এই কৌশল সফল হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রণোদনা প্যাকেজের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘প্রণোদনা প্যাকেজের শতভাগ অর্থ ছাড় দেওয়া সম্ভব না হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে ৯০ শতাংশ অর্থ ছাড় দেওয়া সম্ভব হবে। কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে দেওয়া প্রণোদনার মাত্র ৪১ শতাংশ উদ্যোক্তাদের হাতে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই খাতে দ্রুত অর্থ ছাড়ে জামানত থেকে সরে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করা হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করতে পারলেই প্রণোদনা প্যাকেজের শতভাগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘করোনা মোকাবেলার পরিকল্পনা করার সময় চিন্তা করতে হয় যেন, মৃত্যু কম হয়, ক্ষুধার্তের সংখ্যা না বাড়ে, কর্মসংস্থানের সুযোগ অব্যাহত থাকে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল থাকে।’

সভায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটা ভালো দিক যে এই মহামারিকালেও বাংলাদেশ খাদ্য সংকটে পড়েনি। তবে আমাদের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এই সংকট উত্তরণে অবশ্যই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশই এই খাতের। এ ছাড়া জিডিপির ১৩ শতাংশের জোগানও দিচ্ছে এই কৃষি খাত। তাই ঋণসুবিধা, নীতিগত সুবিধা ও পণ্যের বাজারজাতকরণে এই খাতে বেশি দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।’

সভায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, ‘গত জুলাই থেকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে আরো গতি আনতে হবে। এ জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। সে জন্য অবশ্যই ক্ষুদ্র অর্থনীতিকে আমলে নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। এশিয়ান প্লাসসহ জোটভিত্তিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের দিক নিয়েই ভাবতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা