kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি না আনলে ভারসাম্য নষ্ট হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রিকন্ডিশন্ড গাড়ি না আনলে ভারসাম্য নষ্ট হবে

ব্যবহার করা গাড়ি (রিকন্ডিশন্ড) আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। সংস্থাটির মতে, এতে কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

গতকাল বুধবার দেশের বাজারে গাড়িশিল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে পিআরআই আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসাইনের সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, প্রথাগত শিল্প নয়, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা মাথায় রেখে অটোমোবাইল সেক্টর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (এএসডিপি) ২০২০ তৈরি করছে সরকার।

তিনি বলেন, বাজারে ভারসাম্য তৈরি করে এমন কোনো নীতিকাঠামো নয়; বরং শিল্পবান্ধব নীতিকাঠামো প্রস্তুত করছেন তাঁরা। এনবিআরকে এই শিল্পকে রাজস্ব আহরণের একমাত্র খাত হিসেবে না দেখে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় বক্তারা বলেন, দেশে প্রতিবছর ১৫ হাজার গাড়ির চাহিদা রয়েছে। যদিও ১৭ কোটি মানুষের এ দেশে প্রতি হাজারে তিনজন মানুষ এই গাড়ি ব্যবহার করছে। বর্তমানে ব্যক্তিপর্যায়ের গাড়ির ৮৫ শতাংশই রিকন্ডিশন্ড। সেই তুলনায় প্রগতির মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত গাড়ির সংখ্যা একেবারেই কম। এ ছাড়া আশঙ্কা করা হচ্ছে, এএসডিপি-২০২০ তৈরি করছে সরকার। এতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির ঘোষণা আসতে পারে।

বক্তারা আরো বলেন, প্রতিবছর পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে গিয়ে এনবিআর বিভিন্ন খাত ও উপখাতে শুল্ক আরোপ করছে। একই সঙ্গে এর নীতিকাঠামোও গ্রাহকবান্ধব নয়।

হাসান এইচ মনসুর বলেন, কয়েক বছর ধরে কমছে গাড়ি বিক্রির সংখ্যা। গাড়ি আমদানির যে চিত্র, এতে দেখা যায় ২০১৭-১৮ সালে ২৩ হাজার গাড়ি আমদানি হয়। এর পর থেকে কমতে থাকে; পরের বছর হয় ১২ হাজার। ২০১৯-২০ সালে এসে ১০ হাজারেরও কম আমদানি হয়েছে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক বলেন, ‘সরকারকে দেশ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে হবে। জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো যেহেতু বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তাই আমাদেরও উচ্চ প্রযুক্তির পথে এগোতে হবে।’

তিনি বলেন, ভিয়েতনাম ২০ বছরেও গাড়ি নির্মাণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি এবং মালয়েশিয়ায় প্রায় ৬০টি গাড়ি নির্মাণ শিল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬০ বছরে গাড়ি নির্মাণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। তাই সরকারকে বিদ্যমান বিনিয়োগ, লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, স্থানীয় বাজার ও রপ্তানি বাজার এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ টার্গেট করে যদি নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায়, তবে দেশে গাড়ি নির্মাণ শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

এনবিআরের সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বলেন, বর্তমানে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে ১২৮ থেকে ৮২৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ককাঠামো রয়েছে, যা অত্যন্ত বেশি। আগামী অর্থবছরের বাজেটে সিকেডি এবং সিবিইউর ওপর বিদ্যমান শুল্ক পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আনোয়ারুল আলম বলেন, সরকার প্রস্তাবিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার আগে সব ঝুঁকিগ্রহীতার মতামত নেওয়া হবে। এ ছাড়া নীতিটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা