kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রডের দাম বাড়ছে

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

৩০ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রডের দাম বাড়ছে

বিশ্ববাজারে রড তৈরির কাঁচামালের সংকট এবং দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের ভেতরেও রডের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির প্রভাব পড়েছে রডের বাজারে। এই সংকট অব্যাহত থাকলে দেশে রডের দাম আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাহরিয়ার স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা মহামারির কারণে এত দিন নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। এখন লকডাউন উঠে যাওয়ায় আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। একযোগে বিশ্বের সব দেশে কাঁচামাল আমদানি করায় রপ্তানিকারক দেশগুলোতে কাঁচামাল সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটের কারণে রপ্তানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রড তৈরির প্রধান কাঁচামাল মেলডিং স্ক্র্যাপ ৩০০ ডলারের স্থলে এখন ৪০০ ডলার চাইছে রপ্তানিকারকরা। প্রতি টনে একটি আইটেমেই ১০০ ডলার দাম বেড়েছে। এভাবে স্থানীয় কাঁচামাল শিপ স্ক্র্যাপের দাম প্রতি টন ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার টাকা।’

আগামী ডিসেম্বরে রড তৈরির কাঁচামাল সংকট আরো বেশি হবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতা শেখ মাসাদুল আলম। তিনি সংকটের আভাস দিয়ে বলেন, ‘এরই মধ্যে রপ্তানিকারক দেশগুলো কাঁচামাল সরবরাহ করতে পারবে না বলে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। এখন কাঁচামাল আমদানির জন্য কনটেইনার পাওয়া যাচ্ছে না। শিপমেন্ট অনেকটা বন্ধ বলা যায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে রডের দাম প্রতি টনে ১০-১২ হাজার টাকা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

দেশের অন্যতম রড তৈরিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রি রোলিং মিলস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক তপন সেন গুপ্ত বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে রডের চাহিদা কমে গিয়েছিল। এখন চাহিদা এবং উৎপাদন বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী রডের চাহিদা বাড়ায় এখন কাঁচামাল সংকট তৈরি হয়েছে।’ চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও সমন্বয় হচ্ছে উল্লেখ করে তপন সেন গুপ্ত বলেন, ‘এত দিন কাঁচামালের দাম কম ছিল। আমরাও কম দামে রড উৎপাদন করে বিক্রি করেছি। এখন কাঁচামালের দাম প্রতি টনে ১২০ ডলার বেড়েছে। একইভাবে রডের দামও সমন্বয় করতে হবে।’   

রতনপুর স্টিল রি রোলিং মিলস লিমিটেডের (আরএসআরএম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে ৭০ শতাংশ রডের চাহিদা কমে গিয়েছিল। এখন আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।’ কবির স্টিল রি রোলিং মিলস লিমিটেডের (কেএসআরএম) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে রড তৈরির কাঁচামালের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। তাই হু হু করে বাড়ছে দাম। এখন কাঁচামালের যে দাম তা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এটা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’

ইস্পাতশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘পার্সেল বুকিংয়ের জন্য অব্যাহত চাপে রয়েছি আমরা। এদিকে চীন এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে তারা তাদের দেশে স্ক্র্যাপ আমদানির অনুমতি দেবে। যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরো সংকটে নিয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ইস্পাত উৎপাদনের বর্তমান সক্ষমতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’

শাহরিয়ার জাহান রাহাত আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এখন আমাদের স্থানীয় বাজারে পড়েছে। সুতরাং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে রডের দাম নির্ধারণ না করা হলে ইস্পাত খাত হয়ে পড়বে স্থবির। অথচ এসব শিল্পোদ্যোক্তার ওপর রয়েছে বাড়তি করের বোঝা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা