kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

করোনাতেও স্কুল ব্যাংকিংয়ে সঞ্চয় ১৮২১ কোটি টাকা

► হিসাব সাড়ে ২৮ লাখ ছাড়িয়েছে
► বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে হিসাবের ৬৮.৯১%

জিয়াদুল ইসলাম   

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাতেও স্কুল ব্যাংকিংয়ে সঞ্চয় ১৮২১ কোটি টাকা

মহামারি করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্কুল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা ও আমানত বাড়ছে ধীরগতিতে। গত সেপ্টেম্বর শেষে দেশের সাড়ে ২৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী হিসাব খুলেছে। এসব হিসাবে সঞ্চয়ের (আমানত) পরিমাণ এক হাজার ৮২১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেস্বর এই তিন মাসে হিসাব বেড়েছে ১ শতাংশেরও কম। তবে আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মহামারি করোনার কারণে গত তিন মাসে স্কুল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট ও আমানত প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছে। তবে বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক। 

১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষাথীদের ব্যাংকিং সেবা ও আধুনিক ব্যাংকিং প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে স্কুল ব্যাংকিং কর্মসূচি গ্রহণে ২০১০ সালের নভেম্বরে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে শিক্ষার্থীরা টাকা জমা রাখার সুযোগ পায় ২০১১ সাল থেকে। ব্যাংকগুলো ন্যূনতম ১০০ টাকা জমা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খুলছে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবে আকর্ষণীয় মুনাফা প্রদান, সার্ভিস চার্জ গ্রহণ না করা, ডেবিট কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং স্কুলকেন্দ্রিক আর্থিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার মাধ্যমে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রসার ঘটানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়প্রবণতা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদেরকে দেশের আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসাই স্কুল ব্যাংকিংয়ের লক্ষ্য। প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার ৫৬৪টি। তিন মাস আগে মার্চে যা ছিল ২৪ লাখ ৩১ হাজার ৬০২টি।  ফলে তিন মাসের ব্যবধানে অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ১৮ হাজার ৯৬২টি বা দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩২.২৫ শতাংশ। এ সময়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের আমানত দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তিন মাস আগে যা ছিল এক হাজার ৭৬২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ফলে তিন মাসের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে মাত্র ৫৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা ৩.৩২ শতাংশ। তবে গত এক বছরের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে ১৮.১৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট হিসাবের মধ্যে ৫৬.৫৪ শতাংশ হলো ছেলে শিক্ষার্থীদের। আর ৪৩.২৬ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থীর। এ ছাড়া মোট হিসাবের মধ্যে ৩৯.২৭ শতাংশ খোলা হয়েছে গ্রামাঞ্চলে। ৬০.৭৩ শতাংশ খোলা হয়েছে শহরাঞ্চলে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে সবচেয়ে বেশি হিসাব খুলা হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল শিক্ষার্থীদের হিসাব সংখ্যা ও টাকা জমার স্থিতির দিক থেকে বেসরকারি ব্যাংকের অবদান সবচেয়ে বেশি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে মোট স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের ৬৮.৯১ শতাংশ। তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার ৫১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে, যা স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মোট স্থিতির ৮৩.৪৩ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ২৫.১৬ শতাংশ স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খুললেও মোট আমানতের মাত্র ১৩.১১ শতাংশ সংগ্রহ করেছে। শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি হিসাব খুলেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকটিতে সর্বোচ্চসংখ্যক, অর্থাৎ পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ৩৯৭টি হিসাব খুলেছে শিক্ষার্থীরা, যা মোট হিসাবের ২১.৫২ শতাংশ। অন্যদিকে স্থিতির ভিত্তিতেও শীর্ষে অবস্থান করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। তাদের সংগৃহীত আমানত প্রায় ৫২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা মোট আমানত স্থিতির ২৯.১০ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের হিসাব খোলার দিক থেকে এর পরেই আছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, অগ্রণী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা