kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বাংলাদেশের ব্যাটারি যায় ৪৫ দেশে

সজীব আহমেদ   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশের ব্যাটারি যায় ৪৫ দেশে

দেশে বেড়ে চলেছে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার গাড়ি, যা ইজি বাইক হিসেবে পরিচিত। ক্রমবর্ধমান মোটরগাড়ির চাহিদা তো রয়েছেই। গত কয়েক বছরে দেশে ব্যাপকহারে বেড়েছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। এভাবে চাহিদার বিস্তৃতি বড় করে তুলেছে দেশের ব্যাটারির বাজার। এতে বাংলাদেশের ব্যাটারি উৎপাদনকারী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল ব্যবসায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ব্যাটারির বাজার বছরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। ইজি বাইকগুলো বাজারের ৬০ শতাংশেরও বেশি ব্যাটারি ব্যবহার করে। বাকিটি অটোমোবাইল, আইপিএস এবং সোলার হোম সিস্টেমগুলো ব্যবহার করে। চাহিদা মেটাতে এই বাজারে প্রবেশ করেছে ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে সব ধরনের মোটরগাড়ি, মোটরসাইকেল, ইজি বাইক, আইপিএস, সোলার হোম সিস্টেমসহ বিভিন্ন যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য ব্যাটারি উৎপাদন করছে দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই সঙ্গে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করছে।

রাজধানীর মতিঝিলের পাইকারি ও খুচরা ব্যাটারি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সবুজ মোটরসের মালিক মো. শাহাব উদ্দিন সবুজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর আগে আমরা মাসে সর্বোচ্চ দুই হাজার ব্যাটারি বিক্রি করতে পারতাম। এখন আগের তুলনায় বিক্রি দ্বিগুণ। মাসে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার ব্যাটারি বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে অর্ধেকেরই বেশি তিন চাকার ইজি বাইকের ব্যাটারি। ইজি বাইকের ক্ষেত্রে লোকাল ব্যাটারির চেয়ে চায়নার ব্যাটারির মান ভালো। তাই ইজি বাইকের জন্য মার্কেটে চায়না ব্যাটারি বেশি বিক্রি হচ্ছে। দেশি ও চায়না ইজি বাইকের ব্যাটারিতে দামেরও তেমন বেশি পার্থক্য নেই। দেশি ব্যাটারির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে রহিমআফরোজ, ভলভো, লোটাস, নাভানা ও অ্যাপোলোর ব্যাটারি। চায়না ব্যাটারি বাংলাদেশেই তৈরি করে বিভিন্ন নামে বাজারে সরবরাহ করছে।’ পুরনো ব্যাটারির বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাটারি ব্যবসায়ীরা পুরনো ব্যাটারিও কিনে রাখেন। প্রতিটি পুরনো ব্যাটারি চার-পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারেন।

বাংলাদেশ অ্যাকিউমুলেটর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, দেশের চাহিদা পূরণ করে বিশ্বের ৪২-৪৫টা দেশে বছরে ২৫-২৬ লাখ ব্যাটারি রপ্তানিও হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৫০-৫৫টি। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০-৩৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার শুধু বৈদ্যুতিক তিন চাকার ইজি বাইকের জন্য ব্যাটারি উৎপাদন করে। এই খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রহিমআফরোজ। বর্তমানে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ব্যাটারির চাহিদা দ্বিগুণ। এটি গত ছয়-সাত বছরে প্রসারিত হয়েছে। এখান প্রায় ১০ লাখ বৈদ্যুতিক তিন চাকার গাড়ি রয়েছে এবং তাদের বার্ষিক প্রায় ২৫-৩০ লাখ ব্যাটারি লাগে। বৈদ্যুতিক তিন চাকার গাড়ির বিস্তার, যা এখনো সরকারের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। মূলত পৌরসভার মতো স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরিচালিত।

বাংলাদেশ অ্যাকিউমুলেটর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও রহিমআফরোজ গ্রুপের পরিচালক মনোয়ার মিসবাহ মঈন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে দেশের বাজারের ৬০ শতাংশেরও বেশি ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে তিন চাকার ইজি বাইকগুলোতে। ইজি বাইকগুলোতে ব্যবহৃত ব্যাটারির প্রায় ৮০ শতাংশই চীনের প্রভাবাধীন। চীন থেকে ব্যাটারির সরঞ্জাম নিয়ে এসে বাংলাদেশে তৈরি করছে কিছু অবৈধ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান। দেশে এখন প্রচুর অবৈধ প্রতিষ্ঠান ব্যাটারি তৈরি, পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ব্যাটারির চাহিদা বেশি হওয়ায় অবৈধ পুনর্ব্যবহার বেড়েছে। তারা সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে এসব করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, সারা দেশে প্রায় ৬০০টি জায়গায় ব্যাটারি গলিয়ে পুনর্ব্যবহার হচ্ছে। সরকারকে পুনর্ব্যবহার আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে কারণ অনুপযুক্ত পুনর্ব্যবহারের ফলে মাটি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।’

মনোয়ার মিসবাহ মঈন আরো বলেন, ‘দেশের চাহিদার পাশাপাশি আমরা বিশ্বের ৪০-৪৫টা দেশে বছরে ২৫-২৬ লাখ ব্যাটারি রপ্তানিও করছি। তার মধ্যে বছরে ১৮ লাখ ব্যাটারি রপ্তানি করে রহিমআফরোজ। তবে বিশ্বের বাজারে রপ্তানি গাড়ির ব্যাটারির চাহিদা রয়েছে ৫৫-৬০ বিলিয়ন ডলারের। এখন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিলে আমরা রপ্তানি করছি ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো। বিশ্ববাজারে ব্যাটারি রপ্তানির আরো সুযোগ আছে আমাদের। বর্তমানে দেশে ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৫০-৫৫টি। এর মধ্যে প্রায় ৩০-৩৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা শুধু তিন চাকার ইজি বাইকের ব্যাটারি উৎপাদন করে।’

জানা গেছে, দেশে গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের ব্যবহার ধীরগতির কারণে রিচার্জেবল লিড-এসিড ব্যাটারির বাজার বছরের পর বছর স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। ব্যাটারির বাজার বছরে ১৫ শতাংশ বাড়ছে। এটি আগামী পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হবে বলে মনে করছে ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা