kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রেমিট্যান্সে উড়ন্ত গতি

প্রবাসীরা পাচ্ছেন আরো ১৩২০ কোটি টাকা

সজীব হোম রায়   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রবাসীরা পাচ্ছেন আরো ১৩২০ কোটি টাকা

বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহিত করতে গত অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয় সরকার। তার পর থেকেই রেমিট্যান্সে উড়ন্ত গতি শুরু হয়। প্রতি মাসেই হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। রেমিট্যান্সের রেকর্ডের কারণে সরকার এই খাতে প্রণোদনা বাবদ দ্বিতীয় কিস্তিতে এক হাজার ৩২০ কোটি টাকা ছাড় করেছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—এই তিন মাসের রেমিট্যান্স প্রণোদনা বাবদ এই টাকা পাচ্ছেন প্রবাসীরা। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, রেমিট্যান্স আসার ধারা অব্যাহত থাকলে বরাদ্দের টাকা আগামী কয়েক মাসেই ফুরিয়ে যাবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের ধারায় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।

প্রণোদনার কারণে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই একের পর এক রেকর্ড হচ্ছিল। সর্বশেষ চলতি মাসের মাত্র ১২ দিনেই ১.০৬৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। দেশের ইতিহাসে একক মাসের মাত্র ১২ দিনে এর আগে কখনোই এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জুলাই থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৯.৮৯১ বিলিয়ন ডলার। গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এই একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬.৮৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৪৩.৪২ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের এই ধারার কারণে গত সপ্তাহে দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ এক হাজার ৩২০ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ ছাড়ের আদেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

মোট চার কিস্তিতে রেমিট্যান্সের অর্থ ছাড় করা হয়। অর্থ বিভাগের হিসাবে দেখা গেছে, প্রথম এবং দ্বিতীয় কিস্তি মিলে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খাতে বরাদ্দের অর্ধেকের বেশি টাকা শেষ হয়ে গেছে। দুই কিস্তি মিলে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। সে হিসাবে এই খাতে আর এক হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ রয়েছে।

এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, যে হারে রেমিট্যান্স আসছে তা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই অবশিষ্ট অর্থ শেষ হয়ে যাবে। ফলে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির টাকা ছাড় করতে অন্য বরাদ্দ থেকে টাকা দেওয়া লাগতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো পাঁচ হাজার ডলার বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ প্রণোদনায় কোনো প্রশ্ন করা হচ্ছে না। জমা দিতে হচ্ছে না কোনো কাগজপত্র। তবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ এই অঙ্কের বেশি হলে প্রাপককে প্রেরকের পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র অবশ্যই জমা দিতে হবে। আর ব্যবসায়ী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবসার লাইসেন্সের কপি দাখিল করতে হবে। দুই মাসের মধ্যে এসব নথিপত্র দাখিল করতে হবে। কাগজপত্র দাখিল করলেই মিলবে নগদ সহায়তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা