kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনায় কমেছে বরফের চাহিদা

এ এস এম সাদ   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় কমেছে বরফের চাহিদা

মাছ টাটকা ও সতেজ রাখতে ব্যবহার করা হয় বরফ। বছরজুড়ে মাছের বাজারে ক্যানে ক্যানে বরফের চাহিদা থাকলেও করোনার পর হঠাৎ চাহিদা কমে যাওয়ায় ধাক্কা লাগে বরফ কলগুলোতে। ফলে লোকসানে পড়েছেন বরফ কলগুলোর ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।

করোনার আগে ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের বরফ কলগুলো মাছের বাজারে বরফের জোগান দিত। কিন্তু বাজারে এখন মাছের বেচাকেনা কমে যাওয়ায় আগের মতো বরফের চাহিদাও কম। মীনা বাজার, আগোরা, প্রিন্সবাজার ও পাইকারি মাছের বাজারে বরফের চাহিদা আগের তুলনায় অর্ধেক। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বরফ কলগুলোর মালিকরাও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর, রায়ের বাজার, জিগাতলা, যাত্রাবাড়ীতে গড়ে ওঠা বরফ কলগুলো আর্থিক সংকটের কারণে বরফ উৎপাদন আগের তুলনায় কম। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের একটি বরফ কলের মালিক সিয়াম আহমেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, করোনার পর বরফের ক্যান বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। আগে প্রতিদিন ৮০-১০০টি ক্যান বিক্রি করলেও এখন বিক্রি হয় ৩৫-৪০টি। স্থানভেদে প্রতি ক্যানের দাম ভিন্ন হলেও তিনি বিক্রি করেন ৪০ টাকা করে। তিনি আরো বলেন, ‘এখন বরফ বিক্রি করে যা আসে তার ৮০ শতাংশ ইলেকট্রিসিটির বিল দিয়ে দিতে হয়। তাই এখন লাভ নাই, ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছি শুধু।’ রাজধানীর রায়ের বাজারে আরেক কল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি করোনার আগে মাসে এক-দেড় লাখ টাকা আয় করলেও এখন হয় ৫০-৬০ হাজার। করোনার পর প্রায় সব বরফ কল মালিক লোকসানের মধ্যে পড়েছেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কৃষি মার্কেট, মীনা বাজার, প্রিন্সবাজার, টাউন হলের মাছের বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, করোনার পর মাছের চাহিদা কমে যাওয়ায় বরফ বেশি কেনার প্রয়োজন হয় না। টাউন হল বাজারের প্রায় প্রত্যেক মাছ বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের থেকে তাঁদের বরফ কিনতে হয় অর্ধেক। একই চিত্র রাজধানীর কারওয়ান বাজারে। বাজারের মাছ বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, ‘আগে পাঁচটা বরফের ক্যান কিনতাম, এখন কিনি দুইটা। কারণ বাজারে মাছের চাহিদা কম।’

আবার মীনা বাজার ও আগোরার মতো ব্র্যান্ডের মাছের আউটলেটেও বরফের চাহিদা কমেছে। মাছের আউটলেটে থাকে সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার আগে বরফ দরকার হতো সারা দিনে ১২-১৫ ক্যান, আর এখন লাগে ৮-১০টি ক্যান।’ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণসুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও অনেকে আবেদন করে এখনো পাননি। তাঁদের মধ্যে অনেকে আবেদনও করেননি। জিগাতলার বরফ কলের ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার পর আয় অর্ধেকও হয় না। কল থেকে কর্মীও ছাঁটাই করতে হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাংকের কাছে আবেদন করলেও এখনো কোনো ঋণ সহায়তা পাই নাই।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গবেষক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ঋণ দিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর অবস্থান পরিবর্তন হবে না। তাঁদের দরকার স্বাভাবিকভাবে কাজ করা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা