kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

পাটের দামে খুশি কৃষক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনালি আঁশ পাটের সুদিন আর নেই বলে হাহাকার চলছে অনেক দিন ধরে। চামড়াশিল্প নিয়েও চলছে হতাশা। অবৈধ পথে ভারত থেকে আসা নিম্নমানের চা আসাসহ নানা কারণে হুমকিতে আছে চা-শিল্প। এর মধ্যেই নীরবে এবার পাটের আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। ভালো দাম পেয়ে হবিগঞ্জের পাট চাষিদের মুখে এখন হাসি ফুটেছে। তবে এখানকার কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে ভালোমানের বীজ না পাওয়ায়। সরকারি কোনো প্রকল্পও নেই পাট আবাদে উৎসাহ প্রদান করার জন্য।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা পাট আবাদের জন্য বিখ্যাত। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাটকলে বিক্রি করা হয় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পাট। পাট বিক্রির জন্য মাধবপুর উপজেলা সদরে রয়েছে ছয়টি আড়ত। এ ছাড়া মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন বাজারে রয়েছে আরো ছয়টি আড়ত। এসব আড়ত থেকে প্রতিদিন ট্রাক বোঝাই করে পাট যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত পাটকলগুলোতে।

সরেজমিন মাধবপুর পৌর এলাকার মা ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা যায়, একটি বড় ট্রাকে পাট বোঝাই করা হচ্ছে। আড়তদার সিরাজ মিয়া জানান, এ বছর দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। গত ১০ বছরে যা সর্বোচ্চ মূল্য। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। এমনও সময় গেছে কৃষকদের ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরেও পাট বিক্রি করতে হয়েছে। এভাবে দাম কমতে থাকায় অনেক কৃষক পাট আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে এবার ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি। তাঁর আড়ত থেকে প্রতিবছর ১০-১২ হাজার মণ পাট বিক্রি হয় বলে জানান তিনি। মা ট্রেডার্সে কথা হয় পাট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, শুধু মাধবপুর উপজেলার ১২টি আড়ত থেকে প্রতিবছর ৭০-৮০ হাজার মণ পাট বিক্রি হয়।

তিনি আরো জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আট থেকে ১০ মণ পাট উৎপাদন হয়। কৃষকরা পাট বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে পাটকাঠিও বিক্রি করেন। প্রতিটি পাটকাঠি এক টাকা দরে বিক্রি হয়। পাট আবাদে খরচ ও পরিশ্রম কম। এবারের মতো ভালো দাম পেলে কৃষকরা আবারও পাট চাষে আগ্রহী হবেন। তবে এখানকার কৃষকরা ভালো পাটের বীজ পান না। বিশেষ করে মেস্তা-৩০ জাতীয় পাটের বীজ পেলে ফলন দ্বিগুণ পাওয়া যায়। সরকারিভাবে বিভিন্ন ফসলের বীজ কৃষকদের দেওয়া হয়।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তমিজ উদ্দিন জানান, পাট আবাদে হবিগঞ্জে সরকারি কোনো প্রকল্প বা প্রদর্শনী নেই। একসময় হবিগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে পাট আবাদ হলেও এখন অনেক কম। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। বর্তমানে বাজারে পাটের চাহিদা ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে পাট চাষে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ বছর জেলায় ৪২০ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার আজীবন সদস্য ড. জহিরুল হক শাকিল বলেন, ‘পাটপণ্য পরিবেশবান্ধব ও জনপ্রিয়। পরিকল্পনার অভাবে ও সিনথেটিক পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে আমাদের সোনালি ফসলটি হারিয়ে যেতে বসেছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা