kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

চাঙ্গা সময়ের প্রভাব নেই সিএসইতে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাঙ্গা সময়ের প্রভাব নেই সিএসইতে

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। সেখানে অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনের পরিমাণ মাত্র ১১২ কোটি টাকা। দেশের পুঁজিবাজারে সিএসইর হিসসা মাত্র ২.৭৮ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহেও ডিএসইর তুলনায় সিএসইর লেনদেন ছিল মাত্র ৩.৩০ শতাংশ। করোনাকালীন বন্ধ পুঁজিবাজার চালু হওয়ার পর থেকে লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেকটা চাঙ্গাভাব থাকলেও সিএসইতে এর কোনো প্রভাব নেই। অথচ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দেশের পুঁজিবাজারে সিএসইর হিসসা ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। ২০১০, ২০১১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অংশীদার ছিল ১০ শতাংশ। লেনদেনে সিএসইর গভীরতা কমে যাওয়ায় ডুয়াল ব্রোকার ও বড় বিনিয়োগকারীরাও এখন সিএসই বিমুখ।

অভিযোগ রয়েছে, অপেক্ষাকৃত বড় লেনদেনের অর্ডার দিয়ে বসে থাকতে হয় সিএসইতে। পর্যাপ্ত ক্রেতা-বিক্রেতা পাওয়া যায় দেশের দ্বিতীয় প্রধান পুঁজিবাজারটিতে। এভাবে সময় অনুযায়ী ক্রেতা-বিক্রেতা না পেয়ে একসময় এই বাজারটির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পুরোপুরি ডিএসইমুখী হয়ে যায় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে সিএসই কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ডুয়াল ব্রোকাররা ঠিকমতো অর্ডার দেয় না বলে শেয়ার খরায় ভুগছে সিএসই। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগে লেনদেনের তলানিতে নেমে এসেছে দেশের একসময়ে চাঙ্গা পুঁজিবাজারটি।

লেনদেন আশঙ্কাজনকভাবে কমতে থাকায় সিএসইর একক ট্রেকহোল্ডারদের টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন বি রিচ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রফিকুল হাসান। এ প্রসঙ্গে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ সিএসইতে মার্কেট ডেপথ নেই। ধীরে ধীরে সিএসই থেকে বিনিয়োগকারীরা সরে গেল, সে সময় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এখন আমাদের মতো শুধু সিএসইনির্ভর একক ব্রোকারেজ হাউসগুলোর টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের সিএসইমুখী করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।’

একই সময়ে কাজ শুরু করলেও ডিএসই ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর দুই চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চুক্তি করেছে। অথচ দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে যাচ্ছে সিএসই। করোনার কারণে কৌশলগত বিনিয়োগকারী খোঁজার কাজেও ভাটা পড়েছে।

সিএসইর নবনির্বাচিত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন যিনি নিজেই আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ নামক ডুয়াল ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু এটা একটা ব্যবসা তাই কাস্টমার যেখান থেকে শেয়ার কিনতে বলবেন সেখান থেকেই কিনবেন। এখানে ব্রোকারেজ হাউসের ভূমিকা নাই। সিএসইর উচিত চট্টগ্রামভিত্তিক টি কে গ্রুপ, ইস্পাহানি গ্রুপ, এ কে খান গ্রুপের মতো বড় হাউসগুলোকে অ্যাকটিভ করার উদ্যোগ নিতে পারে সিএসই।’

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন-উর-রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, “বিষয়টা এমন দাঁড়িয়েছে যে ‘ডিম আগে না মুরগি আগে’। বড় বিনিয়োগকারীরা সিএসইতে অর্ডার দেন না পর্যাপ্ত শেয়ার পাওয়া যায় না বলে, আর সিএসইতে লেনদেন বাড়ছে না বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ না থাকার কারণে। এখন অর্ডার না দিলে লেনদেন বাড়বে কোথা থেকে? সিএসইতে মোট লেনদেনের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আসে একক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। ডুয়াল বিনিয়োগকারীরা যত দিন অ্যাকটিভ হবেন না সিএসইতে তত দিন লেনদেন বাড়ার সুযোগ নেই। তাই আমরা ডুয়াল মেম্বারদের সঙ্গে একাধিক মিটিং করেছি। তাঁদের চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন বাড়ানোর জন্য দেন-দরবার করছি।”

এদিকে ব্রোকারেজ হাউসের শাখার পরিবর্তে ‘ডিজিটাল বুথ’ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। এরই মধ্যে বিএসইসি এই প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে বলে তিনি জানালেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন বিএসইসি গাইডলাইন দিলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে দেশ ও বিদেশে ৫০০ ডিজিটাল বুথ স্থাপনের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। যেসব জায়গায় ফরেন রেমিট্যান্সের জোগান বেশি আসে সেসব জায়গায় ছোট ছোট ডিজিটাল আউটলেট খোলা হবে। বাস্তবায়ন হলে অবশ্যই লেনদেন বাড়বে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা