kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

সরকারি চাকুরেদের ঋণ মাফ চাওয়ার হিড়িক

সজীব হোম রায়   

১৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি চাকুরেদের ঋণ মাফ চাওয়ার হিড়িক

কোন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঋণ নিয়ে চাকরিরত অবস্থায় মারা গেলে তাঁর পারিবারিক পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা থেকে যতটুকু সম্ভব ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপরও ঋণ পাওনা থাকলে উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে তা আদায় করা হয়ে থাকে। তবে কম টাকার ঋণ নিয়ে মৃত্যু হলে অসচ্ছল সরকারি চাকরিজীবিদের তা বিশেষ বিবেচনায় মাফ করে দেওয়া হয়। এজন্য সরকারি চাকরিজীবিদের আবেদন করতে হয়। সাধারণত এর সংখ্যা ২০-৫০ হলেও করোনা পরিস্থিতিতে ঋণ মওকুফের জন্য এবার প্রায় প্রতিদিনই আবেদন জমা পড়েছে অর্থমন্ত্রণালয়ে। বেশিরভাগই গাড়ি ও বাড়ি ঋণ মওকুফের আবেদন। তবে এতো বেশি আবেদন জমা পড়ার কারণ জানা নেই অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি একটি নিয়মিত বিষয়। অনেকেই ঋণ মওকুফের আবেদন করে। আমরা সেটি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিই। তবে এবার একটু বেশি আবেদন জমা পড়ছে। এর কারণ জানা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র মতে, ২০১৭ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় কম বেতনের চাকুরেদের মৃত্যু হলে তাঁদের ঋণ মাফ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ব্যাপারে একটি পরিপত্রও জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়, চাকরিরত অবস্থায় কোন সরকারি কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিঃস্ব অবস্থায় রেখে মৃত্যুবরণ করলে বা অক্ষমতাজনিত কারণে অবসর নিলে তাঁদের অনাদায়ি ঋণের আসল ও সুদ মওকুফযোগ্য হবে। অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকা কর্মচারীদের জন্যও এটি প্রযোজ্য হবে। গৃহনির্মাণ ও মেরামত, কম্পিউটার ও মোটরসাইকেল কেনার জন্য কর্মচারীদের নেওয়া ঋণের আওতাভুক্ত হবে। ওই পরিপত্রে যুগ্ম সচিব থেকে ওপরের পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের ওই সুবিধার বাইরে রাখা হয়। তবে পরে তা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কারণ, অনেক সরকারি কর্মকর্তা আছেন যারা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি মারা যাওয়ার পর ঋণ পরিশোধে তাঁর পরিবারের সমস্যা হতে পারে। এসব বিবেচনায় নিয়ে শুধু এমন পরিবারের জন্য ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা রাখা হয়। ঋণ মওকুফ পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের পর পরিবারের আর্থিক অবস্থা যাচাই-বাছাই করা হয়। এ যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করে সরকারি কর্মচারিদের ঋণ মওকুফ সংক্রান্ত কমিটি। স্বাভাবিক সময়ে অর্থমন্ত্রণালয়ে বছরে ২০-৫০টি আবেদন আসে। ঋণের অঙ্ক ছোট থাকায় এতে সরকারের ব্যয় হয় ২-৫ কোটি টাকা। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে হঠাৎ এ আবেদনের পরিমাণ বেড়ে গেছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে অর্থমন্ত্রণালয়ে ১৫০টির বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে ঋণ মওকুফে কিছু বিষয়ে ছাড় দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়। ছোট ছোট বেশ কিছু ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এজন্য প্রায় প্রতিদিনই আবেদন জমা হচ্ছে। আবেদনপত্রগুলো ঘেটে দেখা গেছে, এতে সর্বনিম্ন ২ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মওকুফের আবেদন জমা পড়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা