kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

ব্যাংকগুলোকে প্রধানমন্ত্রী

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে আরেকটু আন্তরিক হোন

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে আরেকটু আন্তরিক হোন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া বিএবির কম্বল গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস

করোনা মহামারিতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হলেও এই ব্যাপারে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে ‘আরেকটু’ আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে পারলে তৃণমূলে গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই লাভবান হবে।’

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) দেওয়া কম্বল গ্রহণ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি জানি আপনাদের চাপ পড়ে বেশি, খরচ পড়ে বেশি। সরকারিভাবে আমরা দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলোও যদি এদিকে এগিয়ে আসে। শুরুতে হয়তো একটু সমস্যা হবে, পরবর্তীতে এরা যখন ব্যবসা-বাণিজ্যটা চালু করতে পারবে তখন বেসরকারি ব্যাংকগুলোই কিন্তু লাভবান হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেভাবে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আপনারা পাশে দাঁড়ান। আমি বলব যে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার কম্বল অনুদান দিয়েছে বিএবি। কম্বল গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে বিএবির চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ সব ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। যেসব ব্যাংক অনুদান দিয়েছে, এর মধ্যে আছে এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ইউসিবিএল, উত্তরা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রাইম ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক প্রভৃতি।

এবার অনেক বৃষ্টিপাত হওয়ায় শীতের প্রকোপ বেশি হতে পারে বলে শঙ্কার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শীত শুরু হওয়ার আগেই বিএবি শীতবস্ত্র ও কিছু কম্বল দিতে চেয়েছে; তাঁরা নিয়ে এসেছেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা এটা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারব, সহায়তা করতে পারব।’ করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি যথেষ্ট স্থবির জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কেবল বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যারা করোনার শুরু থেকেই প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে, ব্যবসায়ীদের সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’ নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলেও ইঙ্গিত দেন সরকারপ্রধান। সেই সঙ্গে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

মুজিববর্ষে দেশে কেউ গৃহহীন, ভূমিহীন থাকবে না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের নিজ নিজ এলাকায় যদি কেউ ভূমিহীন থাকে, গৃহহীন থাকে, আপনারাও তাদের কিছু ঘরবাড়ি তৈরি করে দিতে পারেন।’ আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নতির কথা বিবেচনায় নিয়ে এত বেসরকারি ব্যাংক করার অনুমতি দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে আপনারা জানেন, আমরা ২ শতাংশ প্রণোদনা বৃদ্ধি করে দেওয়াতে এখন কিন্তু সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে এই টাকাটা আসছে। তাতে যেমন রেমিট্যান্স বাড়ছে আবার ব্যাংকেরও কাজ বাড়ছে। তাঁরাও সুযোগ পাচ্ছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা